
শেরপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে শতরূপা জুয়েলার্স নামে একটি স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে দোকানের লোহার সিন্দুকের তালা ভেঙে প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার (১৬ নভেম্বর) রাত থেকে ১৭ নভেম্বর সোমবার সকাল পর্যন্ত এই দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। শতরূপ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান তাপস জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার রাত দশটার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। পরদিন সকাল ১১ টার দিকে এসে দোকানের তালা খুলে দেখি শোরুমের ভিতরে স্বর্ণ অলংকার রাখা ট্রে গুলো এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে এবং সিন্দুকের তালা ভাঙ্গা। পরে শোরুমের পিছনে গিয়ে দেখতে পাই টিনশেডের ওই ঘরটির উপরে টিন কেটে কাঠের পাটাতন উঠিয়ে চোর ঢুকে এই কাজটি করেছে। এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার বিষয়ে শেরপুর সদর থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
এদিকে চুরির খবর পেয়ে বেলা একটার দিকে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তবে মজার বিষয় হল চোরের দল কেবলমাত্র স্বর্ণ ও রূপের অলংকার নিয়ে গেলেও ব্রোঞ্জের তৈরি হাতের বালা ফেলে রেখে যায়। এতে সন্দেহ হয় এই চোরের দলের সাথে স্বর্ণ চেনে এমন কেউ জড়িত রয়েছে। একই সাথে লোহার সিন্ধুকের তালা খোলার কৌশলটা যারা জানে এমন কেউ জড়িত থাকতে পারে। কারণ সিন্দুকের ওপরে তালা কাটা গেলেও ভেতরের চাবি দিয়ে খোলা খুবই দুষ্কর। চুরির বিষয়ে আতিকুর রহমান তাপস জানায়, আমি সকালে দোকান খুলে এসে দেখি আমার সকল স্বর্ণ ও রুপার গহনা চুরি হয়ে গেছে। কে বা কারা নিয়েছে তা আমার ধারণার মধ্যে নেই। এ বিষয়ে সদর থানায় একটি এজাহার দিয়েছি। এতে আমার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ১৫ থেকে ১৬ ভরি সোনা ও রুপার গহনা ছিল। আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুবায়েদ আলম জানান, এই চুরির ঘটনাটি খুবই অ্যালার্মিং, কারণ এই দোকানের আশপাশেই পুলিশ ও নাইট গার্ড থাকে। এ ঘটনায় এজাহার পেয়েছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত পূর্ব প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন