যাত্রী বহনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে মেট্রোরেল

প্রকাশিত: ০৫-১২-২০২২ ১৪:২৩

আপডেট: ২২-১২-২০২২ ১১:৩৮

পার্থ রহমান: দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধনের আর বেশী দেরী নেই। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই খুলে দেওয়া হবে বহুল  কাঙ্খিত  এ প্রকল্পের একাংশ। উদ্বোধনের আগে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে কয়েক মাস ধরে। টিকেটিং, স্টেশনে ওঠা-নামা, এমআরটি কার্ড রিচার্জ, মেট্রোতে প্রবেশ-বের হওয়া প্রভৃতি কাজের মহড়া চলছে এখন। সাধারণ মানুষের কাছে দেশের নতুন এ যানমাধ্যমকে উপস্থাপন করার জন্য ভিডিও তৈরি করা হয়েছে টিউটোরিয়াল। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও বয়স্কদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা।

প্রাথমিকভাবে মেট্রোরেল সেবা দেওয়া হবে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। পরের ধাপে চালু হবে কমলাপুর পর্যন্ত। মোট স্টেশন থাকবে ১৭টি।  মেট্রোরেলে চড়তে যাত্রীদের প্রথমে স্টেশনে প্রবেশ করতে হবে। তিন তলবিশিষ্ট স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় থাকবে কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ, টিকিট কাউন্টার ও ওয়েটিং রুম। তৃতীয় তলায় প্ল্যাটফর্ম। যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যের জন্য দ্বিতীয় তলা থেকে টিকিট কাটতে হবে। যাত্রীদের ওঠানামায় সুবিধার কথা চিন্তা করে তিন ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিঁড়ি ও এস্কেলেটরের পাশাপাশি বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য থাকবে লিফট।

মেট্রো স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় আসার পর যাত্রীরা তাদের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এই ফ্লোরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকিট বিক্রির মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত মেশিনে টাকা প্রবেশ করিয়ে মনিটরে তার গন্তব্য ও টিকিটের সংখ্যা নির্ধারণ করে কল বাটন চাপলে সংগ্রহের স্থান থেকে টিকিট নিতে পারবেন।

এমআরটি কার্ড রিচার্জের ক্ষেত্রে একইভাবে টাকা প্রবেশ করিয়ে মনিটরে টাকার পরিমাণ দিয়ে কল বাটন চাপলে স্বংক্রিয়ভাবে রিচার্জ হয়ে যাবে। প্রতিটি স্টেশনে টিকিট সংগ্রহের বুথ আছে। সিঙ্গেল এন্ট্রি ও ১০ বছর মেয়াদে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। তবে ১০ বছর মেয়াদি টিকিটের জন্য ২০০ টাকা জামানত রাখতে হবে। প্রথমবার রিচার্জ করতে হবে ২০০ টাকা। তবে ইচ্ছে করলে যাত্রী টিকিট কার্ড ক্যানসেল করে ২০০ টাকা সরকারের কাছ থেকে ফেরত নিতে পারবেন।

দোতলায় টিকিট কাটার পর টিকিট কার্ডটি গেটের নির্দিষ্ট স্থানে স্পর্শ করলেই খুলে যাবে গেট। সিঙ্গেল এন্ট্রি কার্ডের ক্ষেত্রে খেয়াল করার মত বিষয় হল, নির্দিষ্ট গন্তব্যের চেয়ে বেশি দূরে গেলে টিকিট কার্ড দিয়ে আর বের হওয়া যাবে না। তবে, ১০ বছর মেয়াদি কার্ডের যাত্রীদের এ সমস্যা নেই। কার্ড স্পর্শ করলেই যাত্রাপথের দূরত্ব অনুসারে টাকা কেটে নেওয়া হবে।

টিকিট কাটার আগ পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে নন-পেইড জোনে। টিকিট কাটার পর পাঞ্চ মেশিনে পাঞ্চ করতে হবে। পাঞ্চ করলে দরজাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। তখনি সুযোগ মিলবে পেইড জোনে প্রবেশের। এরপর সিঁড়ি বা এস্কেলেটর কিংবা লিফট দিয়ে প্ল্যাটফর্মে গিয়ে মেট্রোতে ভ্রমণ করা যাবে। ভ্রমণ শেষে বের হওয়ার সময় পাঞ্চ মেশিনে আবার পাঞ্চ করতে হবে। অতিরিক্ত স্টেশন পরিভ্রমণের ক্ষেত্রে বের হওয়ার দরজাটি খুলবে না। তখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক অর্থ পরিশোধ করে বের হওয়া যাবে।

ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, উত্তরা নর্থ স্টেশন থেকে উত্তরা সাউথ স্টেশন পর্যন্ত ২০ টাকা, মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশন পর্যন্ত ৩০ টাকা, কাজীপাড়া পর্যন্ত ৪০ টাকা, শেওড়াপাড়া পর্যন্ত ৫০ টাকা, বিজয় স্মরণি পর্যন্ত ৬০ টাকা, ফার্মগেট পর্যন্ত ৭০ টাকা, শাহবাগ পর্যন্ত ৮০ টাকা, সচিবালয় পর্যন্ত ৯০ টাকা এবং কমলাপুর পর্যন্ত ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। সর্বোচ্চ ভাড়া ১০০ টাকা। যাত্রীরা মেট্রোরেলের ভাড়া স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করলে ১০ শতাংশ রেয়াত দেওয়ার বিষয়ে ডিএমটিসিএল ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনা ভাড়ায় মেট্রোরেলে ভ্রমণ করতে পারবেন। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রতি ভ্রমণের জন্য বিশেষ রেয়াতের ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

 

MRP/shimul