আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস আজ

প্রকাশিত: ০৩-১২-২০২২ ০৯:০৫

আপডেট: ০৩-১২-২০২২ ০৯:০৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ শনিবার (তেসরা ডিসেম্বর) বিশ্ব আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। সমাজের সকল স্তরের কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা এই দিবস পালনের মূল লক্ষ্য। জাতিসং দ্বারা স্বীকৃত এই দিবসটি ১৯৯২ সাল থেকে পালন করা হচ্ছে। সকল স্তরের প্রতিবন্ধীদের মর্যাদা সমুন্নতকরণ, অধিকার সুরক্ষা, প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্যমে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপ অনুসারে, আমাদের দেশের প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের সাথে জাতীয় উন্নয়নের যোগসূত্র আছে। প্রতিবন্ধীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হলে তারা জাতীয় উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতায় প্রভূত অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করেন অনেকেই।

অধিকারকর্মীদের মতে, আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হলেও সে অনুযায়ি তাদের জন্য কাজ করা হচ্ছে না। প্রায় এক যুগ হতে চলল- বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে। কিন্তু এতে প্রতিবন্ধীদের ভাগ্যের তেমন একটা পরিবর্তন আসেনি।

বিশেষ করে যেসব প্রতিবন্ধীরা দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা গ্রহণের হার আগের চেয়ে বাড়লেও চাকরির বাজারে তাদের দেখা যায় না বললেই চলে। আবার অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী টিকে থাকতে পারছে না। তাছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে অনেক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা। আর সেই দীর্ঘসূত্রতার প্রভাব পড়ে ভাতা পাওয়ার উপরেও।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড-২০১৭ এখনো মানা হচ্ছে না। দেশে এখনো প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতার অভাব সর্বত্র। এমনকি দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাও এখনো প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি বৈষম্য বিরাজমান। এছাড়া প্রতিবন্ধীর জন্য আলাদা কোটা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নেই। তাদের অধিকার ও সুরক্ষা আইনের কমিটিগুলোও কার্যকর নয়। যার কারণে তাদের অধিকার অর্জনে কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে তারা বিভিন্ন জায়গায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সামাজিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

দেশের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। যদিও এটা ঠিক যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যদি প্রয়োজনীয় সমর্থন পায় তবে তারা তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। প্রতিবন্ধীরা নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তাদের সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে।

বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবন্ধীদের মতামত সাধারণত গ্রাহ্য করা হয় না এবং প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়, যেটা শেষ পর্যন্ত তাদেরকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে তাদের অধিকার আদায় ও স্বার্থরক্ষায় সেটি সহায়ক হবে বলে অধিকারকর্মীরা মনে করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬১তম অধিবেশনে ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৬ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষাবিষয়ক সনদ অনুমোদন করা হয়। প্রতিবন্ধীদের মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষা, অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এই সনদের লক্ষ্য। ৩ মে, ২০০৮ সাল থেকে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন হিসেবে কার্যকর হয়। বাংলাদেশ সরকার সনদটি ৩০ নভেম্বর, ২০০৭ সালে অনুস্বাক্ষর করে। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী বিষয়ে দু’টি আইন আছে। ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’ ও ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী আইন-২০১৩’।

বাংলাদেশ সংবিধানের ১৯ নং ধারায় সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আবার সংবিধানের ২৮ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘রাষ্ট্র কখনো ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের সাথে বৈষম্য করবে না।’ একইভাবে সংবিধানের ২৮(৪) ধারায় সমাজের পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

তাই আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে এটি আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের দেশে প্রতিবন্ধীরা সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবার অধিকার সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ তৈরি হবে। ফলে এর মাধ্যমেই জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

Amirul/sharif