‘পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করেছে’

প্রকাশিত: ২৪-১১-২০২২ ২০:৫৬

আপডেট: ২৪-১১-২০২২ ২০:৫৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজনীতিতে গত ৭০ বছর ধরে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করেছে বলে স্বীকার করেছে দেশটির বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল, কামার জাভেদ বাজওয়া। 

বুধবার (২৩শে নভেম্বর) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ ও কর্মকা- বিষয়  যা বেশিরভাগ মানুষই এড়িয়ে যান। ‘আমি কিছু তথ্য সংশোধন করে দিতে চাই। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) আলাদা হয়ে যাওয়া সামরিক নয়, রাজনৈতিক ব্যর্থতা ছিল।

পাকিস্তানের লড়াইরত সৈন্যের সংখ্যা ৯২ হাজার নয়, বরং ৩৪ হাজার ছিল। বাকিরা সরকারের বিভিন্ন দফতরের ছিলেন। এই ৩৪ হাজার সৈন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর আড়াই লাখ সেনা এবং মুক্তিবাহিনীর ২ লাখ সদস্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল বলে জানান তিনি। 

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ছয় বছর নেতৃত্ব দেওয়ার পর চলতি মাসের শেষের দিকে অবসর যাচ্ছেন জেনারেল বাজওয়া। ২০১৬ সালে তিন বছর মেয়াদের জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংসদে সেনাপ্রধানের মেয়াদ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমে তার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছিল।

বিদায় বেলায় পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের দীর্ঘদিনের গোপন সত্য স্বীকার করে নিয়েছেন দেশটির এই জেনারেল। সামরিক বাহিনী কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না।

৬২ বছর বয়সী জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া বলেন, কেন প্রতিবেশী ভারতের সেনাবাহিনী তাদের জনগণের সমালোচনার শিকার হয় না। এর কারণ হলো গত ৭০ বছর ধরে রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ক্রমাগত হস্তক্ষেপ, যা অসাংবিধানিক। তাই, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে, সামরিক বাহিনী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।

জেনারেল বাজওয়া বলেন, সামরিক বাহিনী তার ‘ক্যাথারসিস’ বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে বের হতে শুরু করেছে। আর এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলোও ‘তাদের আচরণের আত্মবিশ্লেষণ করবে’ বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

Raz/Bodiar