বুয়েটে বন্ধ হয়েছে ছাত্ররাজনীতির অপচর্চা

প্রকাশিত: ০২-১০-২০২২ ১৫:১৪

আপডেট: ০২-১০-২০২২ ১৫:৩০

পার্থ রহমান: আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত দুই বছরে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে। কমেছে ছাত্ররাজনীতির অপচর্চা। আবাসিক হলগুলোতেও সিনিয়র-জুনিয়রের বিভেদ নেই। ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ও জ্ঞান চর্চার পরিবেশ বজায় থাকায় খুশি শিক্ষার্থীরা। গবেষণা এবং মেধা বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টিসহ প্রতিষ্ঠানের মানবিক উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। 

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট। দুই বছর আগে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এই ঘটনার পর হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে র‌্যাগিং ও ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ ১০ দফা দাবি জানায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ধাপে ধাপে সেসব দাবি পূরণ হওয়ায় বুয়েট ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।  

বুয়েটের ১৭টি বিভাগে লেখা পড়া করেন প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী। ৯টি আবাসিক হলে থাকেন ৩ হাজার জন। ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম। অনাকাঙ্খিক ঘটনায় প্রতিকার পেতে জরুরি সংকেতের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বহিরাগতদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসন। ইন্টারনেট সুবিধাসহ তথ্য প্রযুক্তির সব সহায়তা আগের চেয়ে বেড়েছে।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, আবরার হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবিই শুধু নয়, ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়নে আরো নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের আরো বেশী মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

গত দুই বছর ধরে ছাত্র রাজনীতির তোড়জোড় নেই বুয়েট ক্যাম্পাসে। তবে নিজেদের অধিকার রক্ষায় শিক্ষার্থীরা আগের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন বলেও জানান বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

MRP/sharif