বিশ্বে ৩০ লাখ শিশু বাধ্যতামূলক শ্রমের শিকার

প্রকাশিত: ১২-০৯-২০২২ ২১:৫৮

আপডেট: ১২-০৯-২০২২ ২১:৫৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে বাধ্যতামূলক শ্রম ও জোরপূর্বক বিয়ের শিকার হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। বাধ্যতামূলক শ্রমে নিযুক্ত হওয়া প্রতি পাঁচজনের মধ্যে অন্তত একজন শিশু। যার সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা। গত পাঁচ বছরে বাধ্যতামূলক শ্রমে আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলেও জানিয়েছে আইএলও। অতিমারী করোনা, জাতিগত সহিংসতা ও জলবায়ু পরিবর্তনকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। 

নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম ও বিয়ের সংখ্যা সা¤প্রতিক বছরগুলোতে আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাধ্যতামূলক এই শ্রম ও বিয়ের ঘটনাকে আধুনিক দাসত্ব বলে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন ও আইএলও এর যৌথ গবেষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের শেষ নাগাদ বাধ্যতামূলক শ্রমে আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ৮০ লাখ এবং জোরপূর্বক বিয়েতে আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী আধুনিক দাসত্বে আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা এক কোটি বেড়েছে। প্রতি পাঁচজন বাধ্যতামূলক শ্রমিকের একজন শিশু এবং এই শিশুদের অর্ধেকের বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অভিবাসী নন এমন শ্রমিকদের তুলনায় অভিবাসীদের বাধ্যতামূলক শ্রমের ফাঁদে আটকা পড়ার সংখ্যা তিনগুণ বেশি। 

প্রতিবেদনে, ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়েকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ২০১৬ সালের তুলনায় গত পাঁচবছরে এই ঘটনার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৬৬ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু নিæ আয়ের দেশ নয় বরং বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই আধুনিক দাসত্বের উপস্থিতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

করোনা অতিমারী, সশস্ত্র সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকট মানুষের কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। যার কারণে বেড়েছে অভিবাসীর সংখ্যা। এরই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আধুনিক দাসত্বের ওপর। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আধুনিক দাসত্বকে মানবাধিকারের মৌলিক লঙ্ঘন বলে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন আইএলও প্রধান। 

 

 

shamima/shimul