সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর জীবনাবসান

প্রকাশিত: ১২-০৯-২০২২ ০১:৩২

আপডেট: ১২-০৯-২০২২ ১৫:২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের নারী নেতৃত্ব আর রাজনৈতিক ইতিহাসের সফল এক নাম সাজেদা চৌধুরী। রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে বঙ্গবন্ধুর কাছে দীক্ষা নিয়েছেন, ছিলেন স্বাধীনতা পূর্ববর্তী উত্তাল সময়ে তার রাজথের সহযাত্রীও। ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান সফল করায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিলো সাজেদা চৌধুরীর। ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্যও নির্বাচিত হন স্বাধীনতার অন্যতম এই সংগঠক। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চরম বিপদের দিনে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।  মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মিদের কাছে বিশ্বস্ততার প্রতীক হয়ে শ্রদ্ধার আসনে ছিলেন বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ। 

যাদের হাত ধরে বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের নব জাগরণ শুরু হয়েছিলো, তাদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর অবস্থান সামনের দিকে। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লড়াই সংগ্রাম আর রাজনৈতিক নানা কর্মসূচীতে সরব উপস্থিতি ছিলো সাজেদা চৌধুরীর। মাত্র ২১ বছর বয়সেই বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে। 

১৯৩৫ সালের ৮ই মে মাগুরায় জন্মগ্রহণ করেন সাজেদা চৌধুরী। তার পিতার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল¬াহ ও মায়ের নাম সৈয়দা আছিয়া খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে øাতক ডিগ্রি অর্জন করেন সাজেদা চৌধুরী। 

ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন সাজেদা চৌধুরী। নেতৃত্বগুনে বঙ্গবন্ধুর øেহধন্য হয়ে ওঠেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৬৯এর গণঅভ্যূত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সাজেদা চৌধুরী। ১৯৬৯ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি কোলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। ৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন সাজেদা চৌধুরী। ১৯৭২ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত নারী পূনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক এবং ১৯৭২ সাল থেকে পরবর্তি চার বছর বাংলাদেশ গার্ল গাইডের জাতীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর চরম নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে আওয়ামী লীগ। দলের সেই বিপদের দিনে ১৯৭৬ সালে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব কাধে তুলে নেন। পরবর্তিতে ১৯৮৬ সাল থেকে ৯২ সাল পর্যন্ত টানা ৬ বছর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সাজেদা চৌধুরী। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সফল করায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত মোট ৫বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। নিজের নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর-২ আসনে তিনি ছিলেন সব শ্রেণী পেশার মানুষের অত্যন্ত প্রিয়জন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন সাজেদা চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গঠন করলে বণ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯২ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী টানা তিনবার সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন এই দুই পদে। 

মৃত্যুকালে তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার স্বামী রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী ২০১৫ সালে মারা যান। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নীতি ও আদর্শের পথে অবিচল দৃঢ়চেতা বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। 

 

MRP/habib