ভারতে তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরীর যাত্রা শুরু

প্রকাশিত: ০২-০৯-২০২২ ১৯:৩২

আপডেট: ০২-০৯-২০২২ ১৯:৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যাত্রা শুরু করেছে ভারতের তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’। রণতরীটি একসাথে ৩০টি যুদ্ধবিমান ধারণে সক্ষম। প্রায় এক দশক ধরে কেরালা রাজ্যের একটি শিপইয়ার্ডে প্রায় ২০ হাজার কোটি রূপি ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। এরমধ্য দিয়ে বিমানবাহী রণতরী নির্মাণকারী দেশের তালিকায় স্থান করে নিলো ভারত। এদিকে, যুক্তরাজ্যের নৌ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক ডুবোজাহাজ ‘এইচএমএস অ্যানসন’। এটিতে বহন করা যাবে টর্পেডো এবং ক্ষেপণাস্ত্র, যা অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আক্রমণ করতে সক্ষম।

ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিলো নতুন একটি বিমানবাহী রণতরী। এটির নাম ‘আইএনএস বিক্রান্ত’। যদিও এই নামে আগে আরও একটি রণতরী ছিলো, যা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপ‚র্ণ ভ‚মিকা পালন করেছিলো। তবে, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে সেটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় ভেঙে ফেলা হয়। সেই যুদ্ধজাহাজের স্মৃতিতেই নতুন রণতরীর নাম দেয়া হয়েছে ‘বিক্রান্ত’।

২০০৯ সালে ‘আইএনএস বিক্রান্ত’ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০২১ সালের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর জন্য সমুদ্রে নামানো হয়। এক বছর সফল পরীক্ষা শেষে শুক্রবার কেরালা রাজ্যের কোচিন শিপইয়ার্ডে জমকালো আয়োজনে নতুন রণতরীটির উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

৮৬০ ফুট লম্বা ও ১৯৭ ফুট উঁচু এই রণতরীটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২০ হাজার কোটি রুপি। যেটিতে একসাথে ৩০টি যুদ্ধ বিমান থাকতে পারবে। যদিও ভারতের কাছে আগে থেকেই আরও একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, তবে নতুন রণতরীটির বিশেষত্ব হলো এটি নিজেদের দেশের তৈরি প্রথম এবং সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। ফলে এখন থেকে বিমানবাহী রণতরী নির্মাণকারী দেশ হিসেবে আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সের মতো দেশের তালিকায় থাকবে ভারতের নাম। 

এদিকে, শত্রুকে মোকাবেলা ও প্রতিরক্ষার স্বার্থে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো বিশ্বের সর্বাধুনিক এবং বিধ্বংসী ডুবোজাহাজ ‘এইচএমএস অ্যানসন’। দেশটির নৌ বাহিনী জানিয়েছে, এটি ৩৮টি টর্পেডো এবং ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারবে। যা প্রায় ১৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আক্রমণ করতে সক্ষম। এছাড়া জাহাজটির ভেতরে একটি পারমাণবিক চুলি­ রয়েছে, যেখান থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করবে ডুবোজাহাজটি। ফলে একবারের জ্বালানিতে টানা ২৫ বছরের বেশি সময় চলতে পারবে এই ডুবোজাহাজ।

অষ্টাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত নৌ কর্মকর্তা জর্জ অ্যানসনের নাম অনুসারে ডুবোজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে।

 

SAI/nasir