চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি, দ্বিতীয় বৈঠকেও সমঝোতা হয়নি

প্রকাশিত: ১৮-০৮-২০২২ ০০:৩৭

আপডেট: ১৮-০৮-২০২২ ১০:৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার দাবিতে চলমান কর্মবিরতি নিরসনে চা বাগান মালিক, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বা পরদিন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বুধবার (১৭ই আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম অধিদপ্তরে চা বাগানের মালিক ও শ্রমিক এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, চা শ্রমিক ইউনিয়ন, বাগান মালিক ও চা কোম্পানির সাথে বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও মালিকপক্ষের বক্তব্যের পরিপেক্ষিতে ‘আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এদিকে, শ্রমিকদের দাবির পরিপেক্ষিতে সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী উপদেষ্টা রাম ভোজন কৈরি। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত চা শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

শ্রমিক নেতারা জানান, চা শ্রমিকদের সঙ্গে সর্বশেষ দ্বি-বার্ষিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ চা সংসদের কাছে ২০ দফা দাবি নামায় ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি দাবি করেন। এ নিয়ে দফায় দফায় এ পর্যন্ত ১৪টি বৈঠক করেছে শ্রম অধিদপ্তর। কিন্তু কোনো সমাধান দিতে পারেনি। তারা মজুরি বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তবে মালিক পক্ষের দাবি, দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা হলেও চা বাগানের শ্রমিকরা অন্যান্য অনেক সুবিধা পান। প্রতি সপ্তাহে দুই টাকা কেজি করে আটা দেওয়া হয়, চা বাগানের জায়গায় থাকাসহ অন্যান্য সুবিধা পান তারা। সব মিলিয়ে তাদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার বেশি পড়ে।

উল্লেখ্য, গত ৯ই আগস্ট থেকে চার দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতির পর শনিবার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি বা ধর্মঘট পালন করে দেশের ২৪১টি চা বাগানের শ্রমিকরা। রোববার সাপ্তাহিক ছুটি ও সোমবার জাতীয় শোক দিবসের জন্য দুদিন কর্মসূচি শিথিল করে চা শ্রমিক ইউনিয়ন। মঙ্গলবার থেকে ফের ধর্মঘটে যান শ্রমিকরা। ফলে দেশের চা বাগানগুলোতে বন্ধ রয়েছে উৎপাদন।

 

FM/habib