বিআরটি প্রকল্প, দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের

প্রকাশিত: ১৭-০৮-২০২২ ১৯:৩৮

আপডেট: ১৭-০৮-২০২২ ২১:১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরায় গার্ডার চাপায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পর বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের সব কাজ বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর কাজ শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে, নিহতদের জন্য ক্ষতিপূূরণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে আলাদা তিনটি রিট দায়ের করা হয়েছে। একটি আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত নিহত পাঁচজনকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নিদের্শ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। 

চার বছরের কাজ ১০ বছরেও শেষ না হওয়ায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে চলাচলকারীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনায়ও আলোচনায় আসছে এই প্রকল্পটি; তার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে সোমবার, যাতে একটি গার্ডার তোলার সময় তার নিচে চাপা পড়ে একটি প্রাইভেটকারের পাঁচজন আরোহী নিহত হন। এর আগেও এখানে গার্ডার দুর্ঘটনা ঘটেছিল দুটি, যাতে একজন নিহত হন। সোমবারের দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। 

এ প্রকল্পের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সময়ের দুর্ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে ইতিমধ্যে তিনটি রিট করা হয়েছে। বুধবার একটি রিটের প্রাথমিক শুনানিতে সোমবারের দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নিদের্শ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। একইসঙ্গে গত পাঁচ বছরে জনগণের নিরাপত্তার জন্য বিআরটি কি কি ব্যবস্থা নিয়েছে ৬০ দিনের মধ্যে তা জানাতে নির্দেশও দিয়েছে আদালত। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টর ডিভিশন বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

এদিকে, এই দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে নিহত রুবেল হোসেনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার, জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুরে বাকি চারজনের দাফন করা হয়।

 

EHM/shimul