জাপান ও চীনে ক্রমশ কমছে জন্মহার

প্রকাশিত: ১৭-০৮-২০২২ ১৮:৪৭

আপডেট: ১৭-০৮-২০২২ ১৮:৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপান ও চীনে ক্রমশ জন্মহার কমছে, যা অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে দেশ দুটিকে। আস্তে আস্তে কমছে জনসংখ্যা। পাশাপাশি কমছে কর্মক্ষম মানুষ। দম্পতিদের বেশি সন্তান নেওয়ার আহŸান এবং শিশু পরিচর্যার জন্য ভাতার পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা দিয়েও ইতিবাচক ফল মিলছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময়ে তারুণ্য সংকটে পড়বে দেশগুলো, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন দেশ দুটির গবেষকরা।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর তালিকার সামনের সারিতে রয়েছে চীন ও জাপান। প্রযুক্তি কিংবা অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। তবে একটি ঘটনা উদ্বিগ্ন করেছে এই দুটি দেশের নীতিনির্ধারকদের।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এক সময় এক সন্তান নীতি গ্রহণ করেছিল সেখানকার সরকার। তবে, গেল কয়েক বছরে দেশটিতে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়া ও জন্মহার কমে যাওয়ায় যুবশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশটির সরকার। এজন্য ২০১৬ সালে ‘এক সন্তান নীতি’ থেকে সরে গিয়ে একাধিক সন্তান নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু তাতে সুফল মিলছে না। সরকারি এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশটিতে বর্তমানে জন্মহার ১ দশমিক এক পাঁচ শতাংশ। দুই বছর আগে যা ছিলো ১ দশমিক তিন শূণ্য শতাংশ।

জাপানের অবস্থাও একই। দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালের শুরুতে ১২ কোটি ৬৬ লাখের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। গত বছর জাপানে ৮ লাখ ১১ হাজার ৬০৪ শিশুর জন্ম হয়েছে। এক বছরে শিশু জন্মের সংখ্যা বিবেচনায় যা গত ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সরকারের পক্ষ থেকে দম্পতিদের বেশি সন্তান নেয়ার আহ্বান, নানা সুবিধা প্রধান এবং শিশুদের পরিচর্যার জন্য ভাতা দিয়েও ইতিবাচক ফলাফল পাচ্ছে না।

গবেষকরা বলছেন, উন্নয়নের পাশাপাশি বাড়ছে কর্ম ব্যস্ততা। কাজের জন্য আলাদা থাকছেন অনেক দম্পতি। এর ফলে সন্তান নিতে অনীহা বাড়ছে দম্পতিদের। সন্তান নিতে দেরি করায় মহিলাদের সন্তান ধারণের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

চীন ও জাপানে এরই মধ্যে জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মক্ষম লোকের একটি বড় অংশের বয়স বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এমন চলতে থাকলে বয়স্ক লোকের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা আসতে পারে।

 

SAI/shimul