৭০ ভাগ প্লাস্টিক বর্জ্যই রিসাইক্লিংয়ের বাইরে

প্রকাশিত: ০২-০৭-২০২২ ১৪:২৭

আপডেট: ০২-০৭-২০২২ ১৫:৩১

ফাহিম মোনায়েম: দেশে প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে পরিবেশ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে রিসাইক্লিং। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ৭০ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্যই রিসাইক্লিং এর আওতার বাইরে রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সংগ্রহ নীতিমালা করলে সে বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে প্লাস্টিক পণ্য আমদানি কমবে, সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রার। এজন্য সরকারের সহায়তা প্রয়োজন বলে জানালেন উদ্যোক্তারা। 

খাবার থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী অথবা প্রযুক্তি পণ্য, প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ ব্যবহার করছে প্লাস্টিক। যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। এটি রোধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং। এর ফলে একদিকে বর্জ্য ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে কমাবে দূষণ। 

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় প্রতিদিন ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ৩১০.০৭ টন ময়লার ভাগাড়ে, ৭৭.০৫ টন খাল ও নদীতে, ১৭.০৩ টন নর্দমায় ফেলা হয়। আর রিসাইক্লিং করা হয় ২৪০.০৫ টন। রাজধানী ও এর আশপাশে ছোট-বড় মিলে প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইক্লিং কারখানা রয়েছে প্রায় ২শ। যেখান থেকে প্রতি বছর রপ্তানি হয় ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য। পাশাপাশি এই বর্জ্য রিসাইক্লিং করে তৈরি করা হয় প্লাস্টিক দানা। 

উদ্যোক্তারা বলছেন, শুধুমাত্র রাজধানীর প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের আওতায় আনা গেলে ৭শ’ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান হবে বহু মানুষের।  

পরিবেশবাদীরা বলছেন, পাতলা ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যাগগুলোই মূলত বর্জ্য তৈরি হওয়ার জন্য দায়ী। এই একটি পণ্যের দিকে নজর দিলেও প্লাস্টিক দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা আর ব্যবসায়ীরা তাগিদ দিলেন রিসাইক্লিং খাতে বড় কারখানা বাড়ানোর।

FM/ramen