ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

প্রকাশিত: ১৭-০৪-২০২২ ০০:৫৭

আপডেট: ১৮-০৪-২০২২ ০০:৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১৭ই এপ্রিল। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। একাত্তরের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের পথচলা। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিশ্ব জনমতের সমর্থন আদায়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই মুজিব নগর সরকারের। পাকিস্তানের কারাগারে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত এই সরকারের সবাই ছিলেন সত্তুরে অনুষ্ঠিত ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। যাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় মুক্তিযুদ্ধ, আসে বিজয়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দু’সপ্তাহের মাথায় একাত্তরের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে প্রবাসে গঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার। এর ৭ দিন পর জাতিসংঘের নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতি আস্থা রেখে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে শপথ নেয় এই সরকার। পাঠ করা হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। তার অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী  হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন কামারুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী। শপথের পর, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা....। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের কাজটি ছিলো অত্যন্ত জরুরি, তবে দুরূহ। এই দুরূহ কাজটি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে করে মুজিব নগর সরকার। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এই সরকার মূল ভূমিকা পালন করে বলে জানান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র তৈরিতে জড়িত প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

মুজিব নগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারী তৎকালীন আনসার সদস্যদের কয়েকজন এখনো জীবিত আছেন। একটি দেশের প্রথম সরকার গঠনের সেই স্মৃতি তাদের চোখে চির ভাস্মর বলে জানালেন মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার দেয়া আনসার সদস্য আজিমুদ্দিন শেখ ও সিরাজ উদ্দিন।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হওয়ায়, মুজিবনগর সরকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের বৈধতা যেমন পেয়েছিল, তেমনি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং মাত্র ৯ মাসে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

 

MNU/sat