২১ বছর ছদ্মবেশে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি শফিকুল

প্রকাশিত: ১৫-০৪-২০২২ ১৪:০৬

আপডেট: ১৫-০৪-২০২২ ২০:২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাম-পরিচয় পাল্টে গত ২১ বছর ধরে ছদ্মবেশে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি শফিকুল ইসলাম। নরসিংদীতে একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি গোপনে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় নিজের উগ্রবাদী মতবাদের প্রচারণাও চালিয়েছেন এই হুজি নেতা। এছাড়া মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ই এপ্রিল) রাতে র‌্যাব-২ কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় অভিযান পরিচালনা তাকে গ্রেপ্তার করে। 

আজ শুক্রবার (১৫ই এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

মুফতি শফিকুল ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছাড়াও ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর থানার বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল।

২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রমনা বটমূলে হামলার পর আত্মগোপনে থেকে সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন মুফতি শফিকুল। ২০০৮ থেকে নরসিংদীতে একটি মাদ্রাসায় নিজের পরিচয় গোপন করে ‘আব্দুল করিম’ ছদ্মনামে ওই এলাকার চরে অবস্থিত একটি মসজিদে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে ইমামতির চাকরি করতেন। ইমামতির আড়ালে তিনি মানুষকে ধর্মের নামে বিভ্রান্তিমূলক অপব্যাখ্যা প্রচার করতেন।

মামলা সম্পর্কে র‌্যাব জানায়, ২০০১ সালের ১৪ই এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত বোমা হামলায় ১০ জন মৃত্যুবরণ করেন এবং আরও অনেকে আহত হন। ওই ঘটনার পর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলাসহ অপর একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। হত্যা মামলাটির বিচারে ২০১৪ সালের ২৩ জুন ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপরদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল-১ এ বিচারাধীন রয়েছে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একটি জনসভা চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন এবং প্রায় তিন শতাধিক গুরুতর আহত হয়। এ হাময় ঢাকার মতিঝিল থানায় একটি হত্যা ও হত্যা চেষ্টার সহযোগিতাসহ ২টি পৃথক মামলা হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ১০ই অক্টোবর ২০১৮ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মুফতি শফিকুর রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার শফিকুর রহমান উক্ত গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অপরদিকে একই ঘটনায় ঢাকার মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অপর একটি মামলা করা হয়। মুফতি শফিকুর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলারও পলাতক আসামি।

এছাড়াও র‌্যাব জানায়, ২০০৫ সালের ২৭শে জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর থানাধীন বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জন নিহত এবং কমপক্ষে শতাধিক লোক আহত হন। উক্ত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শফিকুর রহমান কিবরিয়া হত্যা মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামি বলে জানা যায়। গ্রেপ্তার আসামি মুফতি শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় সর্বমোট ৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

AR/ramen