জাতীয় গণহত্যা দিবস আজ

প্রকাশিত: ২৫-০৩-২০২২ ০৯:১০

আপডেট: ২৬-০৩-২০২২ ০০:২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণহত্যার যেই বিভৎসতা একাত্তর সালে বাংলাদেশ দেখেছে, মানব সভ্যতায় এমন নিষ্ঠুরতম বর্বরতা আরেকটি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ৫১ বছর আগে ঠিক এই দিনটির শেষে রাতের বেলা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যাযজ্ঞটি শুরু করেছিল। লক্ষ্য ছিল সকল অর্থে এদেশের বাঙালিকে নিশ্চিহ্ন করা। কিন্তু পারেনি। লড়াকু বাঙালিরা নয়মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হনাদারদের হটায়, স্বাধীন করে বাংলাদেশ। তারপর থেকে ২৫শে মার্চ ‘কালরাত্রি।’ অথচ পাকিস্তানী হানাদারদের ব্যাপক গণহত্যাযজ্ঞের স্বীকৃতি, বিচার ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আজও বাংলাদেশের দীর্ঘশ্বাস।         

একাত্তরের শহীদ জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার কন্যা মেঘনা গুহঠাকুরতা তখন দশম শ্রেণীর ছাত্রী। পাকস্তানী সেনাদের গণহত্যাযজ্ঞ শুরুর একজন অমূল্য প্রত্যক্ষস্বাক্ষী। দিনটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন সে রাতে বিকট সব আওয়াজ। তার বাবাকে কয়েকজন সৈনিক এসে নাম জিজ্ঞেস করে টেনে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারেন তার বাবাকে গুলি করা হয়েছে।  

অপারেশন সার্চলাইট নামে পাকিস্তানী সেনাদের গণহত্যা অভিযানের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল গোটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সাথে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানার ইপিআর বর্তমানে বিজিবি, হিন্দু অধ্যুষিত পুরানো ঢাকাসহ আরও নানা এলাকা ও স্থাপনা। গোটা বাংলাদেশজুড়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালীর উপর এই গণহত্যা চালায় একাত্তরের নয় মাস।

২৫শে মার্চ রাত সোয়া ১টার দিকে একদল সৈন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। তারা গুলি ছুড়তে ছুড়তে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তখন বঙ্গবন্ধু বীরের মতো দোতলার ঝুল বারান্দায় এসে দাঁড়ান। রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে চিরতরে নস্যাতের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় হায়েনার দল। তার আগেই ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর, অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু তত্কালীন ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতা ঘোষণার ভিত্তিতেই ২৬শে মার্চ বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়।

কেন বিশ্ব দরবারে বাঙালির ওপর এমন বৃহত্তর গণহত্যা অবহেলার শিকার হলো? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে দেশীয় ও বৈশ্বিক রাজনীতির দায় খুঁজে পান মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ক গবেষক মফিদুল হক ও শাহরিয়ার কবিরসহ অন্যান্য গবেষকরা।  

গবেষকরা মনে করেন পাকিস্তানীদের বাঙালি নিধনযজ্ঞ, গণহত্যা শুরুর ৫১ বছর পেরুচ্ছে আজ। তবু এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বিকৃতি মানবতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দৃষ্টিকোণ থেকে চিরকাল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।  

বিগত ৫১ বছরে বিশ্বে অনেক অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেমন বহু রাষ্ট্রের কণ্ঠ সোচ্চার হয়েছে তেমনটি বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে দৃশ্যমান হয়নি। এটা বেদনার আরেক পর্ব। তবে এজন্য গোটা বিশ্ব দায়বদ্ধ  একাত্তরের শহীদদের কাছে, এমনটি মনে করেন গণহত্যা ও মানবাধিকার গবেষকরা। 

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। এ সময় সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। তবে ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে আলোকসজ্জা করা যাবে। কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাগুলো ব্ল্যাক আউটের আওতামুক্ত থাকবে।

MHS/prabir