রাঙ্গাবালী-ঢাকা নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত: ০৪:৩২, ২৩ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৪:৩২, ২৩ নভেম্বর ২০২১

পটুয়াখালী সংবাদদাতা: নিরাপত্তার অজুহাতে রাঙ্গাবালী-ঢাকা নৌরুটে চারদিন ধরে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা। পটুয়াখালি জেলার রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী জেলার দশমিনা, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলা থেকে রাজধানী ঢাকায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের একমাত্র রাস্তা এই নৌপথ। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার কয়েক হাজার যাত্রী।

অভিযোগ আছে, চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে দশমিনা উপজেলার আউলিয়াপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি জাহিদ-৩ এর কর্মচারীদের মারধর ও লঞ্চ ভাংচুর করে নগদ প্রায় চার লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ লিটন ও তার লোকজন।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে দশমিনা থানায় লঞ্চের ক্যাশিয়ার মোঃ ইউসুফ বাদী হয়ে ইকবাল মাহমুদ লিটন সহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর রিদয় নামে একজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার অন্য আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় নিরাপত্তার অজুহাতে ঢাকা-রাঙ্গাবালী নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

এবিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মেহেদী হামান জানান, একজন আাসমি গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্যআসামিদের ধরতে তৎপর রয়েছেন তারা।

এদিকে, হামলা মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন, প্রধান অভিযুক্ত দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দশমিনা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটন।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা, গলাচিপা) আসনের সংসদ সদস্য এবং নৌ পরিবহ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এস এম শাহজাদা বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এবং বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। লঞ্চ মালিকেদরে অনুরোধ করেছি জনগনকে তারা যেন জিম্মি না করেন। তবে এখনও আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান মিলবে।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৭ই নভেম্বর প্রথম এমভি জাহিদ লঞ্চের মালিক জাহিদ মেলকারকে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে আউরিয়াপুর লঞ্চঘাট পল্টুনে নানাম ইকবাল মাহমুদ লিটন। আউলিয়াপুর, বাঁশবাড়িয়া এবং হাজির হাট লঞ্চঘাটে সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য দাবি করেন তিনি। তখন জাহিদ মেলকার জানান এসব ঘাটে লঞ্চের সুপার ভাইজার নিয়োগ করা রয়েছে। লিটন ক্ষুব্ধ হয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় সেদিন দীর্ঘ সময় ঘাটে লঞ্চ আটকে রাখা হয়।

এরপর ১৯শে নভেম্বর বিকেলে লঞ্চটি আউলিয়াপুর লঞ্চঘাটে যাত্রী তুলতে নোঙর করলে লিটন ও আর অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লঞ্চে উঠে ১০জন কর্মচারীকে পিটিয়ে জখম করে। লঞ্চের সিন্ধুক থেকে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৬২০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। লঞ্চেও ভাঙচুর চালায় তারা।

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...