স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে সাংসদদের প্রশ্নের জবাব নেই

প্রকাশিত: ০৭:৩৮, ০৭ জুন ২০২১

আপডেট: ১০:৩০, ০৭ জুন ২০২১

নিজস্ব সংবাদদাতা: স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার ঘটনায় সংসদে তোপের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের কোন প্রশ্নের জাবাব দেননি তিনি। উল্টো প্রসঙ্গ এড়িয়ে করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।

আজ সোমবার (০৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্যরা।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেন, ‘যারা পুকুর চুরি করছেন, তারা বেরিয়ে যাচ্ছেন। যারা এসব প্রকাশ করছেন, তারা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জবাবদিহি নিশ্চিতে কাজ করে উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, সাংবাদিকদের এই সুযোগ দেওয়া সমাজের দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ। এটা ৪ থেকে ৫ শতাংশ দেয়া উচিত ছিল। করোনা নিয়ন্ত্রণে এলে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। তাই স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল করতে হবে। এটাকে অবহেলা করা উচিত নয়। কিন্তু অবহেলা করা হচ্ছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুণ অর রশীদ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানান। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাতকে সংস্কার করতে হবে।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘করোনাকাল হওয়া সত্ত্বেও এ বছর আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো বেসিক জিনিসগুলোর ওপর নজর দেয়া জরুরি।

জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে নজর দিলে দেখা যাবে, অস্বাস্থ্যকর কাজকর্মই বেশি জয়। স্বাস্থ্যখাতের আফজালরা নতুন রূপকথার মতো গল্প ও অনিয়ম করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজনই বলছে স্বাস্থ্যখাতে অনেক মালেক ও আফজাল আছে। একজন নারী উপসচিবের কানাডা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে তিন-চারটা বাড়ি আছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একজন নারী সাংবাদিক যদি অন্যায় করে থাকেন, তাহলে সাথে সাথে পুলিশে দিলো না কেন? ৬ ঘণ্টা নির্যাতনের পর কেন পুলিশে দেওয়া হলো? আইন কেন নিজ হাতে তুলে নেয়া হলো?

তবে কোন প্রশ্নেরই জবাব দেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এসব প্রসঙ্গ এড়িয়ে তিনি বারবার একই কথা বলেন, সেটি হলো- স্বাস্থ্যসেবা একটি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।

করোনা মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওষুধের কোনো ঘাটতি হয়নি। অক্সিজেনেরও অভাব কখনোই হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টিকা নিয়ে চুক্তিও হয়েছে। টিকার জন্য মাথাপিছু প্রায় তিন হাজার টাকা করে লাগবে বলেও সংসদকে জানান স্বাস্ত্যমন্ত্রী।

 

AR/BDB

এই বিভাগের আরো খবর

সংসদে সম্পূরক বাজেট পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদায়ী ২০২০-২০২১...

বিস্তারিত
বাজেটে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ নেই : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রস্তাবিত বাজেটে...

বিস্তারিত
‘নতুন দরিদ্রদের জন্য বাজেটে পরিকল্পনা নেই’

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনার কারণে নতুন...

বিস্তারিত
বাজেটে প্রত্যাশার প্রতিফলন কম : বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২১-২২ অর্থ বছরের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *