বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ হবে: বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ১১:২৬, ১৫ মে ২০২১

আপডেট: ১১:৪৯, ১৫ মে ২০২১

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর ছিল ২০২০। তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীর দিন, ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন, যা চলছে এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরও। স্বাধীন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একাত্মা। তিনিই একাত্তরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর ডাকেই মানুষ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরল ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সেই উত্তাল আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো নিয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরজুড়ে বৈশাখী সংবাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন- যাঁর ডাকে বাংলাদেশ এর আজ ৪’শ ১৫ তম প্রতিবেদন।

১৯৭১ সালের ১৫ই মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা মুক্তিযুদ্ধরত বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নেয়া বাঙ্গালি শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ লক্ষাধিক। ভারতমুখী বাঙালি শরণার্থীদের এই যাত্রা শুরু হয় একাত্তরের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী দখলদার সেনাবাহিনী বাঙ্গালি নিধনযজ্ঞ শুরু  কারার পর। একাত্তরের এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শরণার্থীদের অবস্থা স্বচক্ষে দেখতে আগরতলার আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করেন।

আগরতলায় শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন ইন্দিরা গান্ধী। বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা অবশ্যই স্বাধীনতা অর্জন করবেন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত হবেই। সঠিক সময়ে আমরা আমাদের সাধ্যমত সহযোগিতার চেষ্টা করবো। আপনারা বিচলিত হবেন না বরং ধৈর্য্য ধরুন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতে সহযোগিতা করুন।” (সূত্রঃ ১৮ মে, ১৯৭১; আনন্দবাজার পত্রিকা)

একাত্তরের এদিন, ভারত ২৫ লক্ষ বাঙালি শরণার্থীর বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের প্রতি দাবী জানায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠায় ভারত। চিঠিতে বলে, অনির্দিষ্ট কালের জন্য শরণার্থীদের দায়িত্ব বহন সম্ভব নয়। আর্থিক ক্ষতির জন্য পাকিস্তানের কাছে ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেয় ভারত। বিপরীত দিকে, বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া চীন সরকার যুদ্ধে পাকিস্তানকে সহায়তা হিসেবে ১০০কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

একাত্তরের মে মাসের এদিন পাকিস্তান অবজারভারে বাংলাদেশে দখলদার পাকিস্তানী সরকারের গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। যেখানে বাঙালি নিধনযজ্ঞ পরিকল্পনার অন্যতম এই সামরিক ক্রীড়নক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের প্রদেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, “প্রদেশের সকল স্থান থেকে সশস্ত্র প্রতিরোধ নির্মূল  করা হয়েছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে সন্ত্রাস চলছে। দুস্কৃতিকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) নির্মুল করতে বেশি সময় লাগবে না।” (সূত্রঃ ১৬ মে, ১৯৭১; ডেইলি অবজার্ভার)

HIB/BDB

এই বিভাগের আরো খবর

‘ব্যক্তি জীবনে ভিন্ন মেজাজের ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘ভারতের বন্ধুত্ব চিরদিন মনে রাখবে বাঙ্গালী’

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
'আমরা লড়াই করেছি স্বাধীনতার জন্য'

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘৭ই মার্চের ভাষণের প্রভাব ছিলো জীবনে’

গোলাম মোর্শেদ: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
‘বিশ্বনেতাদের মাঝেও উজ্জ্বল ছিলেন বঙ্গবন্ধু’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনারা

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *