চলচ্চিত্রে কবরী অধ্যায়ের সমাপ্তি

প্রকাশিত: ০৭:১৫, ১৭ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ০৯:০০, ১৭ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের নাম তিনি। পুরো নাম সারাহ বেগম কবরী হলেও শুধু কবরীতেই পরিচয় তাঁর। চলচ্চিত্রের রুপালী পর্দায় এই চিত্রনায়িকার যাত্রা শুরু হয়েছিলো ষাটের দশকে। আলো ছড়িয়েছেন আরো অনেক অঙ্গনে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ছুটে বেড়িয়েছেন বন্ধুদেশ ভারতের বিভিন্ন শহরে। স্বাধীনতার পর চলচ্চিত্রে ফেরেন। অভিনয়ের নৈপুণ্য তাঁকে দিয়েছে জাতীয় পুরস্কার। মানুষের কাছাকাছি থাকতে চাওয়া কবরী সক্রিয় ছিলেন রাজনীতির অঙ্গনেও। ছিলেন জাতীয় সংসদের সদস্য। এমন ব্যক্তিত্বের চিরবিদায়ে শোকে কাতর বিশাল ভক্তকূল। 

কবরী নামটি শুনলেই ভক্তদের মানসপটে ভেসে ওঠে সপ্রতিভ চাহনি, হৃদয় ছোঁয়া মিষ্টি হাসি আর সাবলীল অভিনয়ের নৈপুণ্যসমৃদ্ধ এক নায়িকার রূপ। দেশের চলচ্চিত্রের বিরল প্রতিভার এই নায়িকা নিজের অভিনয় দক্ষতায় রূপালী পর্দার দর্শকদের হৃদয়ে সোনালী ঢেউ তুলে মুগ্ধ করেছে বহু যুগের প্রজন্মকে। পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে। 

জন্ম চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে। ১৯৫০ সালের ১৯শে জুলাই। তখন তাঁর নাম ছিলো মিনা পাল। ১৩ বছর বয়সেই নৃত্যশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরের বছর প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্র দিয়ে রুপালী পর্দায় অভিষেক ঘটে কবরীর। 

অভিনয় করেছেন হীরামন, ময়নামতি, চোরাবালি, রংবাজ, বিনিময়, আগন্তুক ও সারেং বৌসহ বহু জনপ্রিয় সিনেমায়। ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। বিপুল জনপ্রিয় ‘সারেং বউ’ ছবি তাঁর হাতে তুলে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অর্ধশত বছরের অভিনয় জীবনে দুশ’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। 

মানুষ ঘনিষ্ঠ জীবন পছন্দ করতেন বলে, রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন কবরী। আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদে সরাসরি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী দেশ ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার কাজ করেন। যোগ দেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সভা-সমিতিতে। 

স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন আবার। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করেছেন। সবশেষ নির্মাণ করছিলেন সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘এই তুমি সেই তুমি’। পরিচালনার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ও করেন। কিন্তু করোনা শুধু তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণেই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, এই ধরিত্রীতে তাঁর জীবনপথের সমাপ্তি টেনে দিয়েছে। 

কবরী মৃত্যুকালে ৫ সন্তান ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রয়াত এই অভিনেত্রীর আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম ‘স্মৃতিটুকু থাক’। যুগ যুগ ধরে অগনিত ভক্তের ভালোবাসায় জীবন কাটালেও তাঁর সবচেয়ে বড় দুঃখ ছিলো বন্ধুহীনতা। এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, তাঁর জীবনে মনের মতো একজন ভালো বন্ধুও পাননি তিনি। কিন্তু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ভক্তদের হৃদয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের একজন অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে থাকবেন কবরী। 

FI/MSI

এই বিভাগের আরো খবর

ঈদে ১৭টি প্রেক্ষাগৃহে ‘বিশ্বসুন্দরী’ 

বিনোদন ডেস্ক: সিয়াম-পরীমনি জুটির...

বিস্তারিত
ঈদে বৈশাখীর পর্দায় বর্ণিল অনুষ্ঠানমালা

ফারহানা জুঁথী: ঈদ উপলক্ষে সাতদিনের...

বিস্তারিত
হলিউডে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র

ফারহানা জুঁথী: প্রথমবারের মতো হলিউডে...

বিস্তারিত
ঈদে আসছে ঈশান মিত্রের নতুন গান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদে বাঙালিদের বাড়ি...

বিস্তারিত
সুবীর নন্দীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিনোদন ডেস্ক: বরেণ্য সংগীতশিল্পী...

বিস্তারিত
কলকাতায় কঙ্গনার বিরুদ্ধে মামলা 

বিনোদন ডেস্ক: জনপ্রিয় বলিউড...

বিস্তারিত
কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী মান্না দে’র জন্মদিন

বিনোদন ডেস্ক: উপমহাদেশের কিংবদন্তী...

বিস্তারিত
করোনা আক্রান্ত রণধীর কাপুর হাসপাতালে

অনলাইন ডেস্ক: এবার করোনায় আক্রান্ত...

বিস্তারিত
ঝড় তুলেছে সালমান-দিশার ‘সিটি মার’

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *