চীনে দারিদ্রতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

প্রকাশিত: ১২:২৭, ০৩ মার্চ ২০২১

আপডেট: ১২:২৭, ০৩ মার্চ ২০২১

ফারুক হোসাইন: আর কোন গরীব মানুষ নেই বলে দাবি করেছে চীনের সরকার। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে এক অনুষ্ঠানে এই দাবি করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এসময় গ্রামোন্নয়ন দফতারের কর্মকর্তাদের পদক প্রদান করেন তিনি। এই উপলক্ষে শি বলেন, চরম দারিদ্র দূর করার জন্য মানব উন্নয়নে চমৎকার  সাফল্য অর্জন করেছে চীন। লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার ওপরে তুলে আনার দাবি করেন তিনি। এতো অল্প সময়ে এই কোনও দেশের এই রেকর্ড নেই।  

কিন্তু চীন সত্যিই দারিদ্র দূর করতে পেরেছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকের। অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, দারিদ্রের জন্যই চীনে দুর্নীতি বেড়েছে। সেদেশের সরকারের তথ্যও কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়েও সন্দেহ আছে। 

তবে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দারিদ্র দূরীকরণে চীন যে সাফল্য পেয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে অন্য দেশও লাভবান হতে পারে। গত বছরও একই দাবি করেছিল চীন। কমিউনিস্ট সরকার দাবি করে, চীনের কেউই এখন আর দারিদ্রসীমার নীচে পড়ে নেই। চীনে যাদের দৈনিক আয় ২ দশমিক ৩০ ডলার তাদের দরিদ্র বলে ধরা হয়। বিশ্ব ব্যাংকের মাপকাঠি অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯০ ডলার, তারাই দরিদ্র। সেই তুলনায় চীনের মাপকাঠিতে দরিদ্রদের দৈনিক আয় সামান্য বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান যে তাঁদের দেশ নজিরবিহীন সাফল্যের সঙ্গে দারিদ্র দূর করেছে। এটা একটা চমকপ্রদ ঘটনা এবং তা দেশবাসীর দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে কাজ করা কর্মীদেরও তিনি কৃতিত্ব দিয়েছেন। বেজিংয়ে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে মেডেলও তুলে দেওয়া হয়। জিনপিং জানান যে এই মুহূর্তে চিনে একটা শ্রেণির দৈনিক আয় ২.৩০ ডলার, যা বিশ্বব্যাংকের তৈরি মাপকাঠির চেয়ে বেশি।

করোনা মহামারির জেরে তীব্র মন্দায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমবেশি সব দেশই। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিত্তবান দেশের পাশাপাশি খাঁড়া নেমে আসে চীনের অর্থনীতিতেও। এই সঙ্কটের কথা মাথায় রেখেও দেশের দারিদ্রতা নিয়ে শি জিংপিংয়ের দাবি, চীনে আর কোনও দরিদ্র মানুষ নেই। রাতারাতি লক্ষ লক্ষ গরীব মানুষের আর্থিক অবস্থা চীন ছাড়া আর কোনও দেশই বদলাতি পারেনি।

বিশ্ব ব্যাংকের হিসেবে, সত্তরের দশকের শেষদিকে চীনে বাজার অর্থনীতি চালু হওয়ার পর ৮০ কোটি মানুষের দারিদ্র দূর হয়েছিল। 

২০২০ সালে চীনে কমিউনিস্ট পার্টির একশ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৫ সালে শি ঘোষণা করেছিলেন, ‘২০ সালের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র দূর করবেন। সেই লক্ষ্য অর্জন করার জন্য চীন সরকার পরিকাঠামোয় শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে। দেশজুড়ে তৈরি করা হয় রাস্তা ও আবাসন ব্যবস্থা। গ্রামে দারিদ্র দূর করার জন্য কর ছাড় ও ভর্তুকি দেয়া হয়। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা স্বীকার করেছেন, সত্তরের দশকের পর চীনের নাগরিকদের একাংশের জীবন নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। তারা এমন অনেক পণ্য ও পরিসেবা কিনতে পারছেন, যা তাদের আগের প্রজন্ম চিন্তাই করতে পারতো না। 

এই বিভাগের আরো খবর

চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা অতিমারির...

বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় ৮ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের...

বিস্তারিত
ভারত-পাকিস্তানের গোপন বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাশ্মীর নিয়ে...

বিস্তারিত
করোনাভাইরাসের রূপবদল : বিপদ বাড়ছে ব্রাজিলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফের চরিত্র বদল করে...

বিস্তারিত
নাইজারে স্কুলে আগুন, ২০ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *