নদ-নদী দখলমুক্ত করার অভিযানে ধীরগতি

প্রকাশিত: ১০:২০, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০৫:১৪, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পার্থ রহমান: রাজধানীকে ঘিরে থাকা চার নদ-নদীকে দখলমুক্ত করতে একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। আর তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করলেও তাতে রয়েছে ধীরগতি। নদীর সীমানা নির্ধারনে ব্যর্থতা আর প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবও নদী উদ্ধারে বড় অন্তরায়। রাজধানীর আশপাশের চার নদনদীর দখল নিয়ে দুই পর্বের ধারাবাহিকের আজ শেষ পর্ব। 

নদীকে জীবন্ত সত্ত¡া ঘোষণা করে ২০১৬ সালে যুগান্তকারী রায় দেয় উচ্চ আদালত। এর আগে ২০০৯ সালে এক রিট পিটিশনের রায়ে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা চিহ্নিত করে নদীর জায়গা দখলমুক্ত করা, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও তীরে গাছ লাগানোর মাধ্যমে নদী বাঁচাতে নানা নির্দেশনা দিয়েও রায় এসেছিলো আদালত থেকে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাজধানীর চারপাশের নদনদীর সীমানা চিহ্নিত করে ১০ হাজার ৮২০টি পিলার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। 

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৮৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হলেও এর মধ্যে ১ হাজার ৪২৩ টি বসানো হয় ভুল স্থানে, নদীর মূল জায়গার ভেতর। অনেকে আবার এসব পিলার তুলে ফেলে নদীর জায়গা আবারো দখল করেছে। সমস্যা সমাধানে এখন নতুন করে অবার সীমানা চিহ্নিত করে স্থায়ী পিলার স্থাপন করছে বিআইডব্লিউটিএ। যদিও এ নিয়ে ক্ষোভ আছে অনেকের। 

সরকারি তথ্য অনুযায়ি, রাজধানীর চারপাশের নদনদীগুলোর দুই তীরে ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করার কথা। এরই মধ্যে নির্মিত হয়েছে প্রায় ২৪ কিলোমিটার। আর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে উচ্ছেদ করা হয়েছে প্রায় নদীর জায়গা দখল করে নির্মিত ৩৬ হাজার স্থাপনা। ৩৬ কোটি টাকারও বেশী জরিমানা করা হয়েছে দখলবাজদের। তবে ২০২২ সালের মধ্যে নদনদী দখলমুক্ত করতে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও এই কার্যক্রমে ধীরগতি আছে বলে মনে করছেন নদীরক্ষায় রিটকারি এই আইনজীবী।

এদিকে, উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন মহল থেকে বাধা এলেও কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না বলে জানালেন, নৌ-প্রতিমন্ত্রী।

নদীর নাব্যতা রক্ষাসহ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদের পানির গুনগত মান বাড়ানোর জন্য মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দখল আর দূষণের কবলে পড়ে রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করতে না পারলে রাজধানী ঢাকা যেমন ঐতিহ্য হারাবে, তেমনি পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে রাজধানীবাসী। তাই এসব নদনদী উদ্ধারে সরকারের আন্তরিকতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

এই বিভাগের আরো খবর

দখলমুক্ত হচ্ছে না রাজধানীর ফুটপাত

ফাহিম মোনায়েম: অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে...

বিস্তারিত
পিলখানা ট্রাজেডি দিবস আজ

আশিক মাহমুদ: বাংলাদেশের ইতিহাসের...

বিস্তারিত
করোনা টিকার কার্যকারিতা জানতে জরিপ

ইমদাদুল্লাহ বাবু: করোনা টিকার...

বিস্তারিত
তুরাগের বুকে ইটভাটা

পার্থ রহমান: রাজধানীর একদিকে...

বিস্তারিত
অনুমোদন ছাড়াই কেরাণীগঞ্জে সারি সারি ভবন 

তারেক সিকদার: কর্তৃপক্ষের অনুমোদন...

বিস্তারিত
আদালতে বাড়ছে বাংলা ভাষার ব্যবহার

এজাজুল হক মুকুল: উচ্চ আদালতে ইংরেজি...

বিস্তারিত
খাসজমি উদ্ধারে কঠোর আইন হচ্ছে

শাহনাজ ইয়াসমিন: সারাদেশের বেদখল হওয়া...

বিস্তারিত
রাজধানীর পথ-খাবারে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া

শেখ হারুন: নিজের অজান্তেই খাবারের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *