মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০৯:৩৮, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

যশোর প্রতিনিধি: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৯৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। এবছর করোনার কারনে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোন মেলার আয়োজন করা হয়নি। প্রতি বছর মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী স্মরণে মধুমেলার আয়োজন করা হতো কিন্তু এই মহামারির কারনে এবছর শুধুমাত্র ২৫ তারিখে মাইকেল মধূসদন দত্তের কমপ্লেক্সে জন্মবার্ষিকী উপযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও মাইকেল সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং কবি সাহিত্যিকরা থাকবেন অনুষ্ঠানে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক কবি, প্রথম সার্থক নাট্যকার। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার পথ নির্মাতা। আজ (সোমবার) তার শুভ জন্মদিন। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুর থানার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামের বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্ম নেন মধুসূদন দত্ত। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়িতে এবছর মহামারির কারণে হচ্ছে না মধুমেলা।

মধুসূদন সাত বছর বয়সে কলকাতা যান। খিদিরপুর স্কুলে দুই বছর পড়ার পর ১৮৩৩ সালে কবি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। বাংলা, ফরাসী ও সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন। ১৮৪৪ সাল থেকে ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার বিশব কলেজে অধ্যায়ন করেন। সেখানে তিনি গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখেন। তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভুক্ত হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।

মাদ্রাজ থেকে প্রকাশিত পত্রিকা মাদ্রাজ স্পেক্টেটর এর সহকারি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৬২ সালের ৯ জুন ব্যারিষ্টারি পড়ার জন্য তিনি বিলেত যান। ১৮৬৬ সালে তিনি ব্যারিষ্টারি পাশ করেন। মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তিনি বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্যেও অসামান্য অবদান রাখায় বিশ্ববাসী এই ধীমান কবিকে মনে রেখেছে কৃতজ্ঞচিত্তে।

যদিও তার প্রথম ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie কে ইংরেজরা তখন সাদরে গ্রহণ করেনি। পাশ্চাত্যের প্রতি আর্কষিত মধুসূদন ১৮৪৩ সালে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে ‘মাইকেল’ উপাধি ধারণ করেন। তিনি ইংরেজদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এটি রচনা করলে গ্রন্থটি তৎকালীন ইংরেজ সাহিত্যিকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। মধুসূদন থাকলে তাদের সাহিত্যকর্ম স্থান পাবে না এই সংশয় তাদের মাঝে প্রকটভাবে দানা বাধতে থাকে। ইংরেজি সাহিত্যে তার কীর্তির যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় তিনি মনক্ষুন্ন হয়ে পড়েন। তখনই বুঝতে পারেন শেকড় ভোলার জ্বালা। ইংরেজি সাহিত্য থেকে ছিটকে পড়ে বন্ধু মহলের পরামর্শে মধুসূদন বাংলাভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।

তিনি বাংলা সাহিত্যে উপহার দেন শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী, তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য, কৃষ্ণকুমারী, মেঘনাদ বধ কাব্য, ব্রঙ্গনা কাব্য, বীরঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশদপদী কবিতাবলী, হেক্টরবধ এর মতো বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম। মধুসূদন দত্ত নাট্যকার হিসেবেই প্রথম বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে পদার্পণ করেন। ১৮৫৯ সালে তিনি রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক। ১৮৬০ সালে রচনা করেন দুটি প্রহসন : ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এবং পূর্ণাঙ্গ পদ্মাবতী নাটক।

পদ্মাবতী নাটকেই তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। একের পর এক রচনা করেন ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ (১৮৬১) নামে মহাকাব্য, ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্য (১৮৬১), ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক (১৮৬১), ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য (১৮৬২), চতুর্দশপদী কবিতা (১৮৬৬)। মধুসূদনের শেষ জীবন চরম দু:খ ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। আইন ব্যবসায় তিনি তেমন সাফল্য লাভ করতে পারেননি। তাছাড়া অমিতব্যয়ী স্বভাবের জন্য তিনি ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে অর্থাভাবে তিনি মারা যান।
 

এই বিভাগের আরো খবর

সংগীত শিল্পী জানে আলম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংগীত শিল্পী জানে...

বিস্তারিত
বনানীতে সমাহিত লিলি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বস্তরের...

বিস্তারিত
বিজেপিতে যোগ দিলেন শ্রাবন্তী 

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের সরকার দলীয়...

বিস্তারিত
সুকান্তের মেলায় উৎসবের আমেজ

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা: গোপালগঞ্জের...

বিস্তারিত
অমিতাভ বচ্চনের দ্রুতই অস্ত্রোপচার

অনলাইন ডেস্ক: আবারও অসুস্থ বর্ষীয়ান...

বিস্তারিত
শ্রীদেবীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বলিউডের কিংবদন্তী...

বিস্তারিত
ফকির আলমগীরের ৭১তম জন্মবার্ষিকী পালিত

গাজীপুর সংবাদদাতা: একুশে পদকপ্রাপ্ত...

বিস্তারিত
আবারো ছেলে সন্তানের মা হলেন কারিনা

বিনোদন ডেস্ক: দ্বিতীয় সন্তানের মা...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *