টিআরপি বাড়াতে জালিয়াতি করছে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো

প্রকাশিত: ০২:৫৬, ১১ অক্টোবর ২০২০

আপডেট: ০৫:৩৮, ১১ অক্টোবর ২০২০


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর টিআরপি বা টেলিভিশন  রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক জালিয়াতির তথ্য ফাঁস করেছে মুম্বাই পুলিশ। বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে কোন নির্দিষ্ট চ্যানেল দেখার জন্য দর্শকদের টাকা দেয়া হত। এই জালিয়াতিতে ইংরেজি খবরের চ্যানেল রিপাবলিক টিভিও আছে বলে পুলিশের দাবী। তবে চ্যানেলটির প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামী এই জালিয়াতিতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে পুলিশকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন।

বিবিসিকে মুম্বাই পুলিশ কমিশনার পরমভির সিং জানান, হানসা নামের একটি এজেন্সি মানুষের বাড়ির টিভি সেটে জনপ্রিয়তা মাপার যন্ত্র বসিয়ে দেয়। তাদের কয়েকজন কর্মী গোপন নথি চ্যানেলগুলোর কাছে পাচার করে দিচ্ছিলেন। ওই সংস্থাটির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ এই জালিয়তির খোঁজ পেয়েছে।

"যাদের তথ্য হানসা সংস্থার প্রাক্তন কর্মীরা পাচার করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, সেসব বাড়ির লোকেরাই জানায় যে, টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধিরা তাদের প্রতিমাসে প্রায় পাঁচশো টাকা করে দেন রিপাবলিক টিভি চ্যানেলটি চালিয়ে রাখার জন্য। অদ্ভুতভাবে এমন বাড়িও আমরা পেয়েছি, যারা হয়ত নিরক্ষর, কিন্তু তাদের বাড়িতেও ইংরেজি খবরের চ্যানেল চলছে, তারা বাড়িতে থাকুক বা না থাকুক।"

পুলিশ কমিশনার আরো জানান "অর্থ দিয়ে টিআরপিতে কারসাজি করা হচ্ছিল। এটা স্পষ্টতই বিশ্বাসভঙ্গ এবং ৪২০ ধারা (ভারতীয়) অনুযায়ী জালিয়াতি"।

প্রতিদেনে আরো বলা হয়, আগে এ সি নিয়েলসন সংস্থা ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা মাপার কাজ করত। কিন্তু সেই ব্যবস্থায় অনেক ত্র“টি থাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে টিভি চ্যানেলগুলো মিলে বিএ আরসি বা বার্ক নামে একটি সংস্থা তৈরি করে, যারা জনপ্রিয়তা পরিমাপ করে।এই ব্যবস্থায় সারা দেশে প্রায় ৪৪,০০০ মানুষের বাড়িতে টিভির ভেতরে একটি ছোট যন্ত্র বসানো হয়, যাকে 'পিপল মিটার' বলা হয়। সেই যন্ত্র থেকেই তথ্য পাওয়া যায় যে কোন বাড়িতে কোন চ্যানেল কতক্ষণ ধরে দেখা হচ্ছে।

ভারতের সরকারী প্রসারণ সংস্থা প্রসার ভারতীর প্রাক্তন প্রধান জহর সরকার জানান, "সারা দেশে প্রায় তিন লাখ পরিবারকে বাছাই করা হয় আর্থ সামাজিক অবস্থানসহ আরও নানা বিষয়ের ওপরে ভিত্তি করে।

তিনি জানান "প্রতিবছর ওই বাড়িগুলোর এক তৃতীয়াংশ বদলে ফেলা হয়। ওই বাড়িগুলো কাদের সেটা বার্কের লোকেরাও জানে না। কম্পিউটার ভিত্তিক ওই তালিকা বেশ কয়েকটি এজেন্সির কাছে যায়। তাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার লাগিয়ে দেয়। জালিয়াতি এই পর্যায়েই করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।"

টিআরপি বা টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট দিয়ে টিভি চ্যানেলের জনপ্রিয়তা মেপেই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তুলে ধরা হয়। যে চ্যানেল বা নির্দিষ্ট চ্যানেলের যে অনুষ্ঠান যত জনপ্রিয়, বিজ্ঞাপনদাতারা সেখানেই টাকা দেন।

বিবিসিকে মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, এই জন্যই জালিয়াতির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে সেটাও অপরাধী কার্যকলাপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ। বিজ্ঞাপন দাতারা ছাড়াও সাধারণ মানুষও সেই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলো দেখতে চান ।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত অনেকের কাছেই এটা জানা ছিল যে টিআরপিতে কারসাজি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সেটা পুলিশী তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি চ্যানেলের নয় বরং গোটা সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই এখন মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে মন্তব্য করেন ঢেঙ্কানলের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ মাস কমিনিউকেশনসের সহকারী অধ্যাপক সম্বিৎ পাল।

এই বিভাগের আরো খবর

জামিনে কারামুক্ত সাংবাদিক রোজিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামিনে কাশিমপুর...

বিস্তারিত
জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশ না যাওয়ার...

বিস্তারিত
চিরবিদায় প্রণব দাশ গুপ্ত টিটু

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনায় আক্রান্ত...

বিস্তারিত
রোজিনার জামিনের বিষয়ে আদেশ রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *