করোনায় প্রারম্ভিক শিক্ষাবঞ্চিত বিশ্বের ৪ কোটি শিশু

প্রকাশিত: ০৭:৪০, ২২ জুলাই ২০২০

আপডেট: ০১:৪০, ২২ জুলাই ২০২০

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৪ কোটি শিশু প্রারম্ভিক শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বুধবার নিউইয়র্ক থেকে ইউনিসেফ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউনিসেফের গবেষণা বিষয়ক কার্যালয় ইনোসেন্টির তৈরি করা এই গবেষণাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ এর কারণে শিশুসেবা এবং প্রারম্ভিক শৈশবকালীন শিক্ষা পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে করা হয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তা শিশুদের পড়াশোনা শুরু করায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শিশুসেবা এবং প্রারম্ভিক শৈশবকালীন শিক্ষা এমন একটি ভিত তৈরি করে, যার ওপর শিশুদের বিকাশের বিষয়টি নির্ভরশীল। আর বৈশ্বিক এই মহামারি সেই ভিতকে মারাত্মক হুমকিতে ফেলেছে।

কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে আরো উলে­খ করা হয়, লকডাউনের কারণে অনেক বাবা-মাকে শিশুসেবা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এ কারণে বৈষম্যমূলকভাবে নারীদের ওপর চাপ অনেক বেড়েছে। সেবাসমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ছোট শিশুদের পরিবারগুলোর জন্য সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। এসব শিশুর অনেকে আগে থেকেই সামাজিক সুরক্ষামূলক সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত ছিল।

শিশুদের সমন্বিত পরিষেবা, মমতা, সুরক্ষা, উদ্দীপনা ও পুষ্টি সেবা প্রদানে এবং একই সঙ্গে তাদের সামাজিক, অনুভূতি ও মানসিক দক্ষতার বিকাশে সক্ষম করে তুলতে শিশুসেবা অপরিহার্য বলে গবেষণায় উলে­খ করা হয়। এ থেকে উত্তোরণে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ফোর বলেন, এই দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য পরিবাগুলোর তাদের সরকারের ও চাকরিদাতাদের সহায়তা প্রয়োজন।

গবেষণায় বলা হয়, ১৬৬টি দেশের মধ্যে অর্ধেকেরও কম দেশে অন্তত এক বছরের জন্য বিনামূল্যের প্রাক-প্রাথমিক কর্মসূচি রয়েছে। এটি আবার নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ক্ষেত্রে মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অনেক ছোট শিশু যারা বাড়িতেই ছিল, তারা তাদের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় খেলা এবং প্রাথমিক শিক্ষা সহায়তার সুযোগ পায় না।

 প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুসেবা ও প্রারম্ভিক শিক্ষাজনিত বিকল্পের অভাবও অনেক বাবা-মাকে, বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা মায়েদের অনেকেই তাদের ছোট শিশুটিকে নিজ কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। গবেষণায় আরো বলা হয়, এ অবস্থায় সব বাবা-মায়ের জন্য স্ববেতন মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা, যাতে মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়া ও সাশ্রয়ী শিশুসেবা শুরু হওয়ার মাঝে কোনো ফাঁক না থাকে। পাশাপাশি কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য প্রয়োজন অনুসারে নমনীয় বা সুবিধাজনক কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রণব মুখার্জির অবস্থা আশঙ্কাজনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের সাবেক...

বিস্তারিত
করোনায় আক্রান্ত প্রণব মুখার্জি

অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত...

বিস্তারিত
ইতালিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনাভাইরাসের...

বিস্তারিত
নাইজারে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *