দেশে পাদুকা শিল্পের চাহিদা বিপুল, বাজার বিরাট আপডেট: ০২:৫০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: হোক নবজাতক কিংবা প্রৌঢ় কোনো ব্যক্তি, দেশের ১৬ কোটি মানুষের পা জোড়া নিরাপদ রাখতে চাই ১৬ কোটি জোড়া জুতো বা স্যান্ডেল বা চপ্পল। মাত্র এক জোড়ায় একজনের হয় না, কারো বেশি লাগে। ফলে দেশে পাদুকার চাহিদা বিপুল। স্বাভাবিক ভাবেই এ বাজার অনেক বড়।

একসময় এ চাহিদা পূরণে নির্ভরতা ছিলো বিদেশি জুতো-স্যান্ডেলের ওপর। সে চিত্র এখন পাল্টে গেছে। দেশের পাদুকা শিল্প এখন অনেক সমৃদ্ধ, যার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে।

জুতা ফ্যাশনের অংশ হলেও আদিকাল থেকেই মানুষের পা নিরাপদ রাখার চিন্তা থেকে তা আবৃত করার ধারণা আসে। ভারতবর্ষে পায়ে স্যান্ডেল জুতো পরার অভ্যাস নিয়ে খোদ বিশ্বকবি ও বাংলা সাহিত্যের গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আছে। যার শিরোনাম 'জুতা আবিষ্কার’। বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তি উদ্যোগে স্যান্ডেল-জুতা বানানোর প্রাচীন চর্চা সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে পরিণত হয় পাদুকা শিল্পে।

মূলত ব্রিটিশ শাসনামলে আধুনিক জুতা স্যান্ডেলের ব্যবহার এই অঞ্চলে বাড়ে। জুতো তৈরির পরিকল্পিত কারখানা তারপর গড়ে উঠতে থাকে। এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানালেন, ১৯৬০ সাল থেকেই এ দেশে জুতা শিল্পের গোড়াপত্তন ঘটে। বাটা আর ইপ্সির মতো হাতেগোনা দুই একটি প্রতিষ্ঠান এর সূচনা করে। পরে ৯০ দশকের শুরু থেকে দেশে চামড়া ও ট্যানারি শিল্পের ব্যাপক অগ্রগতির ফলে পাদুকা শিল্পেরও  ব্যপ্তি ঘটে।

চামড়া,স্পঞ্জ, রাবার বা প্লাস্টিকের চপ্পল ও জুতো পরার চল এ জনপদে শুরু হওয়ার আগে কাঠের খড়ম নামে একধরনের পাদুকার প্রচলন ঘটে ঘরে ঘরে, যার ব্যবহার এখন আর দেখা যায় না। প্রাচীনকালে রাজা-বাদশা-জমিদারদের পাদুকা ছিলো অন্যরকম, মহামূল্যবান অলংকারের কারুকার্য-সমৃদ্ধ। বর্তমান আধুনিক বাজারে পাদুকা মানেই নামি-দামি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারখানায় তৈরি  করা পণ্য।

ক্রমবর্ধমান এই পাদুকা শিল্পে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে এ শিল্পের ভবিষ্যত উজ্জ্বল বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অমল কান্তি দেব।

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে পূর্ণ জীবন অব্দি অগণিত জোড়া জুতো-স্যান্ডেলের প্রয়োজন হয়ে থাকে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিও নিশ্চিত বিষয়, যা পাদুকা শিল্পের অগ্রযাত্রার নিশ্চয়তা দিয়ে আসছে।