নওগাঁয় বিরল রোগে আক্রান্ত তিন বছরের শিশু আপডেট: ০৯:২৫, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর তিন বছরের শিশু পল্লব চন্দ্র লাকড়া। জন্মের সময় থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুটির গায়ের চামড়া কুঁচকানো।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে চলেছে শিশুটির রোগের প্রকোপ। একমাত্র সন্তানের চিকিৎসার পেছনে টাকা ঢেলে সর্বস্বান্ত হয়েছেন তার দরিদ্র পিতা-মাতা। এ অবস্থায় পল্লবের উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার ও স্বজনেরা।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম পল্লব চন্দ্র লাকড়া'র। জন্মের সময় থেকেই তার গায়ের চামড়া কুঁচকানো ছিলো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগের প্রকোপ বেড়ে গায়ের চামড়া শক্ত হয়ে ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। বিরল রোগে অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতর ছোট্ট এই শিশুটি।

২০১৫ সালের জুলাই মাসে পল্লবকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। চিকিৎসরা জানান, পুষ্টিহীনতার কারণেই এমন অবস্থা শিশুটির। এর পর চিকিৎসকের পরামর্শ দীর্ঘদিন ওষুধ খেয়েও কোনো উন্নতি হয়নি পল্লবের।

পল্লবের মা বলেন, “চোখ দিয়ে সবসময় পানি ঝরে। বাচ্চাটাকে নিয়ে অনেক জায়গায় যাওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনোভাবে ঠিক হচ্ছে না।”

কেবল তাই নয়, এখন পর্যন্ত তার রোগটাই নির্ণয় করা যায়নি। এরই মধ্যে তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়-সম্বল শেষ হয়েছে তার দরিদ্র বাবা-মায়ের। ভ্যানচালক বাবার উপার্জন দিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খরচ চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শিশুটির জীবন রক্ষায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার বিশিষ্টজনেরা। 

সমাজসেবী রজত গোস্বামী বলেন, “সমাজের বিত্তবানদের আহ্বান জানাবো তারা যেন বাচ্চাটিকে সাহায্য করে।”

নওগাঁর মিঠাপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন বলেন, “তার সুচিকিৎসার জন্য আমাদের এমপি মহোদয়সহ আমাদের উপজেলার ইউওনো মহোদয়কে বিষয়টি জানাবো।”

উন্নত চিকিৎসা পেলে শিশু পল্লব স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে- এমন আশায় আছেন পরিবার ও স্বজনেরা।