ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-19

, ১৪ রমজান ১৪৪০

রোহিঙ্গারা শুধু বোঝা নয়, ঝুঁকি বলে মনে করছেন সমাজকর্মীরা

প্রকাশিত: ০৩:৩০ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০৩:৩০ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে শরণার্থী শিবিরের বাইরে। কক্সবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলা ছেড়ে আশ্রয় আর খাদ্যের সন্ধানে তারা ছড়িয়ে পড়ছে চট্টগ্রামের দিকে। এতে সামাজিক ও নিরাপত্তা সমস্যার আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা।

এ ছাড়া ভোটার নিবন্ধনের আগে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে, রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত পাঠানোও কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের সাথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের শারীরিক গঠন ও ভাষাগত অনেক মিল। এ সুযোগে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা খুব সহজেি মিশে যাচ্ছে স্থানীয়দের সাথে।

তারা শুধু ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে এমন নয়। দালাল ও আত্মীয়তার সূত্র ধরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জনপদে।

জীবিকার সন্ধানে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় চাপ বাড়ছে স্থানীয়দের ওপর।

কক্সবাজার মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অবাধে বিচরণ করছে।

গ্রিন কক্সবাজার-এর নিবার্হী পরিচালক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, "দৈহিক অবয়ব ও ভাষাগত দিক থেকে মিল থাকার কারণে রোহিঙ্গারা অনায়াসে আমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হচ্ছে।"  

১৯৯১ সালে প্রথম মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসে। সেদেশের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়নের মুখে ২০১২ সালে  আবারো আসে রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারের তিনটি ক্যাম্পে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলে বর্তমানে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা পাঁচ লাখ। 

গত ২৫ আগস্ট থেকে সর্বশেষ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ঢুকেছে প্রায় তিন লাখ। এরা দেশের ও সমাজের জন্য কেবল বোঝাই নয়, বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। 

কক্সবাজারের আইনজীবী অরূপ বড়ুয়া তপু বলেন, "রোহিঙ্গারা যদি লোকালয়ে মিশে যায়, তা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে সামাজিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হবে।"

কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. এ. কে. এম. ইকবাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গাদের আসার ব্যাপারে যদি কেউ উৎসাহ যোগায় তাদের বিরুদ্ধে সাজার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ জন দালালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

রোহিঙ্গা-ঢলের বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশ মোকাবেলা করতে হচ্ছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষকে।
 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is