ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-24

, ১৯ রমজান ১৪৪০

পুরার্কীতি সংরক্ষণে অদৃশ্য লড়াই সংশ্লিষ্ট গবেষক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে

প্রকাশিত: ০১:১৯ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০১:১৯ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার পুরার্কীতি সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে বেশ অনেক বছর ধরেই এক অদৃশ্য লড়াই চলছে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে। গবেষকরা চাইছেন, তালিকাভুক্ত প্রতিটি স্থান সঠিকভাবে সংরক্ষিত হোক। পাশাপাশি আরো পুরার্কীতি তালিকাভুক্ত করার কথাও ভাবছেন তাঁরা। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে বিদ্যমান তালিকা আরো ছোট হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দোয়েল চত্ত্বরের কাছে শাহবাজ মসজিদ। এটি তিন নেতার মাজারের ঠিক পেছনে, তবে মূল সড়ক থেকে খুব একটা নজরে পড়ে না। ছয়শ বছর আগে মোগল আমলে নির্মিত এই স্থাপত্য গঠনশৈলী দিক থেকে দিল্লির জামে মসজিদের মতো।

তার অদূরেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রয়েছে প্রায় সমসাময়িক কালে নির্মিত রমনা কালী মন্দির। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি  সেনাবাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এই ঐতিহাসিক মন্দির। তার খানিকটা দূরে টিএসসির ভিতর আছে গ্রিক নিদর্শন এবং ব্রাহ্ম ধর্ম অনুসারীদের তিনটি মঠ। এসবের সহাবস্থান প্রাচীন কাল থেকে এই বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতির ইতিহাস বর্ণনা করে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি এনে কয়েকশ বছর কীভাবে একই সাথে বসবাস করা যায়, তা ঢাকার ঐতিহ্য দেখলেই বোঝা যায়।

আবার কিছু অবহেলার শিকার রমনা কালী মন্দির একই স্থানে নির্মিত হলেও, রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তালিকায়। এ তালিকায় আছে শাহবাজ মসজিদও। তবে তালিকায় না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অনেক পুরার্কীতি ঢাবি কর্তৃপক্ষ নিজেই সংরক্ষণ করছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সদ্যবিদায়ী উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত পুরার্কীতিগুলো আমরা সংরক্ষণ করছি। পাশাপাশি এগুলো আরো উন্নত করারো চেষ্টা চলছে।"

আরো একসময় ঢাকায় ছিল বাকল্যান্ড বাঁধ, করোনেশন পার্ক, ফিনিক্স পার্ক, লেডিস পার্ক, লোহার পুল, কাঠের পুল, দর্শনীয় ঝিলসহ আরো কত কী? পরিকল্পনা ও সচেতনতার অভাবে নগরায়ণের সাথে সাথে এসব ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করলে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রাচীন এই রাজধানীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য বেঁচে থাকতো। তৈরি হতো না হারিয়ে যাবার আশঙ্কা। তাতে এই শহর বিশ্বের বহু প্রাচীন শহরের মতোই আকর্ষণ করতো সারা দুনিয়ার পর্যটকদের।

প্রতœতত্ত্ব ও ঐহিত্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য এর গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের যতটা আকুতি ততটা কর্তৃপক্ষের কাজে ও কথায় পাওয়া যায়না। বরং ১৩টি সড়কসহ যে ১২৪টি স্থাপনা সংরক্ষণের তালিকায় রয়েছে সেটাও ছোট হতে পারে। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সংরক্ষনের জন্য যেই পুরার্কীতির মূল্যায়ন আছে সেটাকেই আমরা কেবল রাখবো।

দূর ভবিষ্যতে ঢাকার অবশিষ্ট স্থাপনার পরিনতি কি হবে তা নির্ভর করবে সামনের সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও কর্যক্রমের ওপর। তবে নাগরিক সচেতনতা ও চাপ পাল্টাতে পারে উদাসীন মনোভাব।
 

এই বিভাগের আরো খবর

হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার-২৫ মে ভোর থেকে ডিম...

শাহজালালে বিমানে উঠার সময় রোহিঙ্গা দুই নারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান উঠার সময় ধরা পড়লেন দুই রোহিঙ্গা নারী। শনিবার ভোরের দিকে গ্রেফতার হওয়া...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is