ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-19

, ১৪ রমজান ১৪৪০

সরকারি হিসেবে ঢাকায় পুরার্কীতি শতাধিক, গবেষকদের মতে ৩,০০০

প্রকাশিত: ১২:২০ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ আপডেট: ১২:২০ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার শতাধিক স্থাপনাকে ঢাকার পুরার্কীতি হিসেবে চিহ্নিত করলেও সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে এর সংখ্যা এখনও তিন হাজারের মতো। তবে আরো অনেক ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন অসচেতনতা, অযত্ন ও অবহেলায় এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে। আর যা অবশিষ্ট আছে সেগুলোও হারিয়ে গেলে এ শহরের শেকড়ের দৃশ্যমান ইতিহাস হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রত্নতত্ত্ববিদদের।

বড় কাটরা নামের ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ছয়শ বছর আগে মোগল শাসন আমলে বুড়িগঙ্গার তীরে নির্মিত। ইতিহাস থেকে জানা যায় বড় কাটরা ছিল সরাইখানা। এখন এটি মাদ্রাসা। মোগল আমলের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যেসকল পুরার্কীতি এখনও অবশিষ্ট রয়েছে তার মধ্যে লালবাগ কেল্লা সংরক্ষিত হলেও এই বড় কাটরা এবং ছোট কাটরা অবহেলার শিকার।

এই দুই পুরার্কীতি সরকারের তালিকাভুক্ত থাকলেও হচ্ছে অবহেলিত। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বড় কাটরার মূল কাঠামো এখনও দৃশ্যমান।

এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির তত্ত্বাবধায়ক জানান, মাদ্রাসার নামে পাঁচ কাঠা জায়গা থাকলেও, তাঁরা মাত্র দু বিঘা ভোগ করতে পারছেন। আর বাকি জায়গা আশেপাশের লোকজন বিভিন্নভাবে দখল করে রেখেছে।

অবহেলার কারণে ছোট কাটরা বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। নতুন স্থাপনা ও দোকানপাট রীতিমতো গিলে ফেলেছে ছোট কাটরাকে। অথচ এতে নির্বিকার কর্তৃপক্ষ

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আলতাফ হোসেন বলেন, “ছোট কাটরার জায়গা অনেকেই দখল করেছে। আবার অনেকে বর্তমানে নতুন করে দখল করছে। এ নিয়ে অনেকগুলো মামলাও আছে। এসব মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।”

১৭৫৭ সাল থেকে প্রায় ২০০ বছর ব্রিটিশ শাসন আমলে নির্মিত বহু ঐতিহাসিক নির্দশনও অবহেলার শিকার। আর এগুলো বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। ফরাশগঞ্জের রুপলাল হাউজ তেমনই একটি। মূলত বুড়িগঙ্গার উপকন্ঠে গ্রিক ধাঁচে তৈরি এই ভবনটি আহসান মঞ্জিলের সাথে পাল্লা দিয়েই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু আহসান মঞ্জিল দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকলেও, রূপলাল হাউজ আজ ভরে আছে পেঁয়াজ, রসুন আর মরিচের ঝাঁজে।

রূপলাল হাউজের মতোই ফরাশগঞ্জের নর্থব্রুক হল, বড় বাড়ি, মঙ্গলালয়সহ বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা বেদখল ও ভাঙনের শিকার হয়েছে। অনেকদিন ধরেই রাতের অন্ধকারে এসব নিদর্শন ভাঙার মহোৎসব চলে আসছে। সংরক্ষণ ও সংস্কারের নামেও চলছে ভোগদখল। পাশাপাশি চলছে এসব ঐতিহাসিক কাঠামো ও কারুকার্য ভেঙে ফেলার অনাকাঙ্ক্ষিত চর্চা। আছে আইনি জটিলতার গল্প। কিন্তু এসব ছাপিয়ে কর্তৃপক্ষের সংরক্ষশ প্রচেষ্টা দেখা যায় না একেবারেই।

প্রত্নতত্ত্ব গবেষক ও এসব সংরক্ষণের জন্য যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তাগাদা দিয়ে আসছেন, তাঁদের অনেকেই বহু পুরার্কীতির বেহাল দশায় দারুণ মর্মাহত। তাঁদের হতাশার অন্যতম বড় কারণ হলো-- বহুবার কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে কড়া নেড়েও তাদের জাগাতে পারেননি তাঁরা।
 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is