নারায়ণগঞ্জ নগরের ভোট রোববার

প্রকাশিত: ০৪:৫০, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ১২:১৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে শুক্রবার (১৪ই জানুয়ারি) মধ্যরাতে। ভোট নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ।  জয়ের জন্য শেষ মুহূর্তে নিজেদের মতো করে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।  নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী।

শুক্রবার সকালে শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবনে ব্রিফিং করেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তিনি বলেন, তাকে পরাজিত করতে অনেক পক্ষ এক হয়ে গেছে। তারা ঘরেরও হতে পারে বাইরেরও হতে পারে। যারা সহিংসতা করে তারা একসময় এক হয়ে যায়। এখানে আপন আর পর কী। এখানে নির্বাচনটা হচ্ছে আইভী বনাম অনেকে।

আইভী বলেন, কেন্দ্র কী করছে, তা শুধু কেন্দ্রই বলতে পারবে। আমার প্রতিটা নির্বাচনই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ নির্বাচনও চ্যালেঞ্জবিহীন নয়। কেন্দ্রের লোকজন কাউকে প্রভাবিত করছে না। তারা হয়তো অন্য কোনো কারণে এখানে পর্যবেক্ষণে আছেন। যাতে এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।

তিনি আরও বলেন, ভোটের মাঠে তারা কখনো নেগেটিভ কিছু বলেনি। আমি সহিংসতার বিপক্ষে। সহিংসতা আমার তরফ থেকে মনে হয় না হবে। কারণ, আমার সেরকম কোনো বাহিনী নেই আর আমি কোনোদিন সহিংসতা করিও নাই। সহিংসতা হলে আমার ক্ষতি হবে।

তিনি বলেন, আমি খুব শক্তিশালী পারসোনালিটির মানুষ। আমার সঙ্গে তৃণমূল পর্যায় থেকে সবাই আছে। আমাকে দুর্বল করা এত সহজ নয়। আমি কোনোকিছুতে দুর্বল হবো না। আমাকে কিছুই প্রভাবিত করতে পারবে না।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচনি প্রচারণাকালের শেষ দিনে বলেন, পুলিশের কার্যক্রমের কারণে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে জনগণ ভীত না। আমার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আন্তর্জাতিক দূতাবাসের যারা আছেন, পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী যারা আছেন সবাইকে বলব, আপনারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করুন। কেন আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ যাচ্ছে। শুধু তাই নয় বিএনপি করে না অথচ যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছে তাদেরকেও হয়রানি করা হচ্ছে। 

তৈমূর আলম বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা তো নৌকায় ভোট দেবে না। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের কমিটি ভেঙে দিচ্ছে। কারণ তারা নৌকার পক্ষে কাজ করছে না। তিনি আরো বলেন, কাউকে ধমক ও গালি দিয়ে তো কাজ করানো যায় না। নারায়ণগঞ্জের জনগণের কাছে মেসেজটা ক্লিয়ার যে, তাদের মধ্যে বিরাট ফাটল। ঢাকা থেকে মেহমানরা এসেও এই ফাটল মেটাতে পারেনি। হাতি এখন জনগণের মার্কা। হাতির মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে। এদিকে নানা নাটকীয়তার পর শামীম ওসমান নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিলেও তাকে নিয়ে সন্দেহ দূর হচ্ছে না। আইভী নিজেও এখনো তার প্রতিশ্র“তিকে আস্থায় নিতে পারছেন না। ওসমান পরিবার সক্রিয়ভাবে আইভীর জন্য মাঠে থাকলে নৌকার বিজয় অনেকটা সহজ হবে। কিন্তু কোনো কারণে ওসমান পরিবার তৈমূরের দিকে ঝুঁকে পড়লে আইভীকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। তাই শামীম ওসমানের ভূমিকা কী হবে, তা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, রোববার (১৬ জানুয়ারি) নির্বাচন। মেয়র পদে তৈমূর ও আইভি ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও ৫ জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৩২ জন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের এ সিটিতে ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। নারী ভোটার-২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ আর পুরুষ ভোটার-২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ জন।

GM/MSI

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...