ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-20

, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

সঙ্গীতশিল্পী ও কবি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু কবিতা ও শ্লেষকণিকা

প্রকাশিত: ১০:৪৫ , ১৪ মার্চ ২০১৭ আপডেট: ১০:৪৫ , ১৪ মার্চ ২০১৭

[যুক্তরাজ্য প্রবাসী লেখক-গবেষক আলমগীর হক স্বপন সংকলিত]

নগরোপান্ত #: ৫১১

এই পৃথিবী তখনও ছিল বড়
প্রথম সেই বৃষ্টি নেমেছিল
তখনও প্রেমে হইনি সড়োগড়ো
সেই প্রথম বৃষ্টি নেমেছিল

এই পৃথিবী তখনও জ্বরে কাঁপা
সূ্র্যগতি পাথরঝড়ে কাবু
তখনও রং শালীনতায় মাপা
তখনও স্পিডোমিটার কাঁপা-কাঁপা

সেই পৃথিবী আগুন বুঝে নিয়ে
মাটিতে ধান এঁকেছে মাথা গুঁজে
স্পর্শস্বরে ডেকেছে পাখিমাতা
প্রদীপ সব বসেছে পিলসুজে

সেই পৃথিবী এই পৃথিবী যদি
ফুল কোথায়! কোথায় প্রজাপতি?
আমায় দাও আবিরে অনুমতি
সেই পৃথিবী এই পৃথিবী যদি!

সেই পৃথিবী এখনও বেশ বড়
এখনও নই মাপায় সড়োগড়ো.

নগরোপান্ত #: ৩৩৪

বিশ্ব সুবিশাল আর ছোট্ট সে ত্রিপুরা
মানচিত্রে জাগ্রত হল বিস্ময়ের চূড়া
পরিকাঠামোর নেই বালাই-সম্বলও
ফেডারেশনের নামে চলে রাজনীতি
ক্রীড়ার মন্ত্রক আছে, দল-উপদলও
খেটে খ্যাতি জিতে নিলে রাষ্ট্রীয় লোকগীতি!
আহা রে! মেয়েটা যদি হিপ না-ছোঁয়াতো!
পদক আসত ঠিক স্বাধীনতা-ফ্লোরে!
মেডেল তো রাষ্ট্রেরই! স্টেটও ভল্টাতো!
ইশ! মেয়ে, বুঝলি না তোর প্রেমিক রাষ্ট্ররে!
ঘামের মর্মস্বাদ শুধু পেশিগুলো জানে
পেশিমর্ম জানে দেশের ভোট-রাজনীতি
তবুও কিশোরী আট চারে তুলে আনে
আবিশ্বে চতুর্থ থানে! পাল্টাবে জ্যামিতি?
জ্যামিতি থাকত একই যে কোনও পদকে!
বন্যা বয়ে যেত শুধু ফেলিসিটেশনের!
এখনও শুভেচ্ছা জারি কী রাষ্ট্রীয় শোকে!
অধিকার কোথায় এ রুদালি-নেশনের?
না, দীপা, তোমার হিপ লাগেনি মাটিতে
মাধ্যাকর্ষণই! তোমার দেশই টেনেছিল
বাচ্চা মেয়ে! কী সাহস! গেলে মেডেল নিতে!
মুহূর্তে দাঁড়ালে উঠে! খুব জরুরি ছিল?!
সুবিশাল বিশ্ব ছোট্ট ত্রিপুরা মেনেছে
সোনা-রুপো-ব্রোঞ্জ? মেয়ে হীরক এনেছে!
---------

নগরোপান্ত #: ৩৩৩

আমজাদ আলি থেকে শাহ রুখ খান
ভালদেশে যেতে হলে নাম বদলান
আলোদেশ কোন‘খানে’ কেন ভয় পায়
‘খান’দানি বিবরণ হিস্ট্রি-পাতায়
ভালদেশ শান্তির বৈঠক করে
পাড়ায় আগুন জ্বালে জল রেখে ঘরে
আলোদেশ গোলা বেচে ভরে নেয় গোলা
এই একে ফেলা আর ওই ওকে তোলা
আলোদেশে ভালদেশে গোলা-কারখানা
সন্তোষী মা বেচেন আখগুড়-চানা
তা ছাড়া তো কুরু-পাণ্ডবও মুসলিমই
তা ছাড়া তো ক্রুসেডেও আইএস, সিমি
দাদারা ভীষণ দাদা! জ্যাঠা গোত্রীয়
তোমারে বারুদ দিনু, তুঁহু তেল দিয়ো
তারপরে মশা বেছে বলবই হাতি
বলব, ইশ! ইসলাম জংগি-প্রজাতি
বিশ্বযুদ্ধগুলো পোকেমনও জানে
মাথারা মাথার লোভে শুধু কান টানে
উহারা সভ্যজাতি, প্রহরীই ওরা
মোছলমানের মানে মহীনের ঘোড়া
পথে হল দেরি খুব! পা চালান, দাদা
হিরোসিমা-নাগাসাকি নীরক্ত-সাদা
কাদাগুলো রক্তের, কাদা সোমালিয়া
কবীরের দোঁহা নিন, টেরিজার হিয়া
মাই নেম ইজ খান, সরোদিয়া আমি
পরমাণু মানে বুঝি, অন্তর্যামী
দাদার ভাবনা সাবঅলটারন-মাপে
বেঁচে ওপেনহাইমার গীতার অভিশাপে
না গো না, শেকসপিয়র! নামে যায়-আসে
প্রলাপ-গোলাপ চিনি নাম-নির্যাসে
মেলা থেকে ফেউ আনো! দাদা, পড়ি পায়ে
শান্তি শিখিয়ে দেবো নমাজ-আদায়ে
----------

নগরোপান্ত #: ৩৩৪

বিশ্ব সুবিশাল আর ছোট্ট সে ত্রিপুরা
মানচিত্রে জাগ্রত হল বিস্ময়ের চূড়া
পরিকাঠামোর নেই বালাই-সম্বলও
ফেডারেশনের নামে চলে রাজনীতি
ক্রীড়ার মন্ত্রক আছে, দল-উপদলও
খেটে খ্যাতি জিতে নিলে রাষ্ট্রীয় লোকগীতি!
আহা রে! মেয়েটা যদি হিপ না-ছোঁয়াতো!
পদক আসত ঠিক স্বাধীনতা-ফ্লোরে!
মেডেল তো রাষ্ট্রেরই! স্টেটও ভল্টাতো!
ইশ! মেয়ে, বুঝলি না তোর প্রেমিক রাষ্ট্ররে!
ঘামের মর্মস্বাদ শুধু পেশিগুলো জানে
পেশিমর্ম জানে দেশের ভোট-রাজনীতি
তবুও কিশোরী আট চারে তুলে আনে
আবিশ্বে চতুর্থ থানে! পাল্টাবে জ্যামিতি?
জ্যামিতি থাকত একই যে কোনও পদকে!
বন্যা বয়ে যেত শুধু ফেলিসিটেশনের!
এখনও শুভেচ্ছা জারি কী রাষ্ট্রীয় শোকে!
অধিকার কোথায় এ রুদালি-নেশনের?
না, দীপা, তোমার হিপ লাগেনি মাটিতে
মাধ্যাকর্ষণই! তোমার দেশই টেনেছিল
বাচ্চা মেয়ে! কী সাহস! গেলে মেডেল নিতে!
মুহূর্তে দাঁড়ালে উঠে! খুব জরুরি ছিল?!
সুবিশাল বিশ্ব ছোট্ট ত্রিপুরা মেনেছে
সোনা-রুপো-ব্রোঞ্জ? মেয়ে হীরক এনেছে!
--------------

নগরোপান্ত #: ৩৩১

গোরুগণ সরু হয়ে ছিল ইতিহাসে
এখন তাহারা সব গেরুয়া আকাশে
#
আমার নিজের কাকা! দেখলেই গোরু
ল্যাজ খুঁজে প্রণাতেন, ভক্তি-ডমরু
কাকা, মানে, ছোটকাকা, মানে, কাকামনি
আমার লেখার গুরু, গোরুরও সজনি
গুঁতোয় মরল কাকা! গোরু চিনল না!
এখানে প্রশ্ন--
এই? বিজেপি ছিল না?
----
 

নগরোপান্ত #: ৩২৭
চোখে আমি মরেই গেলাম
বাজার করছে দরদাম
আমায় শান্ত করা যায়?
শান্তিরা খুব নিরুপায়
গালিব বোঝেনি কেন, বলো?
চলো, পতনের কাছে চলো
---

নগরোপান্ত #: ৩২৫

বাবার চিতার পাশে আজও জানি বসে আছে সে
ভ্রূণের শান্তি নিয়ে মাথার খাদ্য খায় সে
যে আমার সে খামার উজানে পাঠিয়ে দেওয়া মন
প্রতিটি আদরে দেখি, মেখে আছে বাইশে শ্রাবণ
------

নগরোপান্ত #: ৩২৪

নেবে না জানোই যদি তোমার খেলায়
কেন ডেকেছিলে, বলো, এই অবেলায়
কী কুয়াশা জমে, বলো, তোমার ছোঁয়ায়
কী মায়া জমিয়ে রাখো ওই মোহনায়
গুনে গুনে যাও
যা তোমার অধিকার
রাত-দিন-রাত
সব মুছে দাও
গুনে গুনে দাও
একবার গুনে দাও
আজ-কাল-পরশু
গুনে গুনে দাও...

(এটি একটি গান। একুশে শ্রাবণ মধ্যরাতে শোনাতে ইচ্ছে হল। বাইশে শ্রাবণের ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দিন, বন্ধুরা। তিনি নিশ্চয় মার্জনা করবেন)
----

নগরোপান্ত #: ৩২২

সে তোমার বিগ্রহ, এ বিষয়ে নেই সন্দেহ
তোমার উপচারেরা খুব শ্রেয় আর খুবই প্রেয়
আশমান মাঝেমাঝে আরতির ভারে অবনত
দেখা হবে সে মাটিতে, যে মাটি আমার, অক্ষত
---------

নগরোপান্ত #: ৩২১

আখাম্বা গাছের ছায়া জড়ো হয় ভুতের বাগানে
সূর্য জলে ধুয়ে গেলে গিঁথে গিঁথে স্নেহদ্রব্য আনে
------

অ-কবিতা, স্রেফ ভণিতা #: ৬২

পড়ে আছে মায়া ছায়া-নির্জনে
বাঁধি তার, তার ছেঁড়ে তাই
সরে আছে ছায়া কায়া-কীর্তনে
আদি প্রেমে অনাদি ঘোচাই 

 

এই বিভাগের আরো খবর

কফি প্যাকেই হোক রূপচর্চা

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রাচীনকাল থেকেই মহিলারা রূপচর্চায় বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে আসছে। কখনও বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির প্রসাধনী আবার...

মার্কিন লেখক স্ট্যান লি আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: স্পাইডারম্যান, ইনক্রেডিবল হাল্কের মত কমিক চরিত্রের স্রষ্টা মার্কিন লেখক ও মার্ভেল কমিক্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট স্ট্যান লি আর...

হুমায়ূন আহমেদের ৭০ তম জন্মদিন আজ

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ।  ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is