চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনকার অজানা অনেক গল্প আপডেট: ০৯:২০, ১৪ মার্চ ২০১৭

চলচ্চিত্রের এমন অনেক দৃশ্য আছে যা হয়তো পর্দায় কয়েক সেকেন্ড বা এক মিনিট বা তার কিছু বেশি সময় দেখানো হয়।। কিন্তু সেই দৃশ্য ধারণে কত দীর্ঘ সময় লাগে, সে-কথা অধিকাংশ সাধারণ দর্শকের অজানা। এক সময় দেশের চলচ্চিত্র ছিল সাদাকালো,  তারপর হয়েছে আংশিক রঙিন। আর গত কয়েক দশক ধরে সম্পুর্ণই রঙিন। এমন অগ্রযাত্রার পাশাপাশি কারিগরি ক্ষেত্রে বিপুল উন্নয়ন ঘটেছে।

চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) বংলাদেশে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণের মূুল পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান। প্রায় সব চলচ্চিত্রেই অনেক দৃশ্য ধারণ করা হয় এফডিসির ভিতরে। এখানে রয়েছে স্টুডিও। সিনেমার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাণ করা হয় সেট। সাজানো হয় উন্মুক্ত জায়গার পরিবেশ।

সম্প্রতি নির্মীয়মাণ চলচ্চিত্রের শুটিং চলার সময় দেখা যায়, একটি দৃশ্য ধারণের কাজ শেষ করতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সারা দিনই লেগে যায়। দেশের একসময়কার জনপ্রিয় নয়িকা রোজিনা বললেন, শিল্পীদের এই পর্বটি একটি সময়সাপেক্ষ কাজের অধ্যায়।

সম্প্রতি নির্মীয়মাণ আরো একটি চলচ্চিত্র 'দুই রাজকন্যা'। রাজার আমলের পুরোনো কল্পকাহিনী নিয়ে তৈরি করা এই চলচ্চিত্রের চিত্রায়ন করতে এফডিসিতে তৈরি করা হয়েছে এক বিশাল সেট। সেখানে আছে রাজপ্রাসাদ, রাজার মহল, রাজা ও সেই রাজার আমলের মানুষদের পোশাক-আশাক। এমনি আরো নানা আয়োজনের মধ্যে ঢুকলে মনে হবে, যেন এ এক রাজার রাজত্বে আছে কেউ। কল্পনা থেকে এমন সেট তৈরি করেন যাঁরা, তাঁদেরও দীর্ঘ অধ্যাবসায়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

চলচ্চিত্র নির্মণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বরাবরই একটি প্রতিযোগিতামুলক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে আধুনিক থেকে আধুনিকতর হয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রযুক্তি। যার মধ্যে ক্যামেরা, সম্পাদনা, ডাবিং, কালার ও সাউন্ড কারেকশন-সহ নানা কাজের জন্য সাম্প্রতিক কালে যেসকল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়েই করা হচ্ছে। তারপরও আছে এক্ষেত্রে আক্ষেপের গল্প।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে প্রযুক্তিগত আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো জীবনঘনিষ্ট কাহিনীর সংকটে কারণে সাম্প্রতিক কালের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র এক বিপুলসংখ্যক দর্শক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 
 

 

Publisher : Jyotirmoy Nandy