ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-19

, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মুম্বাইয়ে জিন্নাহ'র প্রিয় বাড়িটি এখন শত্রুসম্পত্তি

প্রকাশিত: ১২:৩১ , ২৮ আগস্ট ২০১৭ আপডেট: ১২:৩১ , ২৮ আগস্ট ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্র হয়েছে এখন থেকে সত্তর বছর আগে। দেশ বিভাগের প্রতিক্রিয়ায় শুধু সাধারণ মানুষ নয়, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকেও রেখে যেতে হয়েছে তার প্রিয় বাড়িটি, যেটি তিনি যত্ন নিয়ে তৈরি করেছিলে তার প্রিয় শহর ভারতের বোম্বেতে, এখনকার মুম্বাইয়ে।

কালের পরিক্রমায় ভারত-পাকিস্তান বিদ্বেষের জালে আবদ্ধ হয়েছে সেই বাড়িটিও। রীতিমত বিতর্ক হচ্ছে বাড়িটিকে ঘিরে।-- খবর বিবিসি'র।

সম্প্রতি বিবিসি একজন সংবাদদাতা গিয়েছিলেন সেই বাড়িতে, যা ভেঙে ফেলার জন্য দাবি উঠছে ভারতীয়দের একটি অংশের দিক থেকে।

ভারতের একজন রাজনীতিক মঙ্গল প্রভাত লোধার মতে, বাড়িটি পাকিস্তানের গর্বের প্রতীক হতে পারে কিন্তু ভারতের জন্য এটা ষড়যন্ত্রের একটি প্রতীক।

১৯৪৭ সালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারত ছাড়েন নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্য, যার প্রতিষ্ঠাতা তিনি নিজেই।

কিন্তু পাকিস্তানের যাওয়ার পথে তিনি একটি চমৎকার বাড়ি ফেলে যান তখনকার বোম্বেতে, যার এখনকার নাম মুম্বাই।

ভারত ভাগ ছিলো এ অঞ্চলের মানুষের জীবন বদলে দেয়া ঘটনা। এর ফল কিংবা প্রতিক্রিয়া এখনো বয়ে চলেছে এ উপমহাদেশের মানুষ।

সত্তর বছর আগের যে ঘটনার প্রভাব এখনো দূর করা যায়নি যেকোনো স্তরের মানুষের জীবন থেকে।

লাখ লাখ মানুষ প্রিয়জন ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সীমান্ত, ফেলে গিয়েছিলেন শ্রমে-ঘামে আর ভালোবাসায় তৈরি ঘরবাড়ি।

তাই যখনি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ গেছেন পাকিস্তানে, তখন থেকে তিনি ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন ভারতীয়দের কাছে।

পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে বাড়িটির মালিকানা দাবি করেছে, কিন্তু ভারত ইতোমধ্যেই বাড়িটিকে ঘোষণা করেছে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে।

স্থানীয় রাজনীতিক মঙ্গল প্রভাত লোধা প্রচারণা চালাচ্ছেন বাড়িটি ভেঙে ফেলার জন্য। তাঁর বক্তব্য-- বাড়িটি ভেঙে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হতে পারে।

প্রায় আড়াই একর জায়গায় বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন জিন্নাহ। সাংবাদিক সিদ্ধার্থ ভাটিয়ার মতে, জিন্নাহ নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন বোম্বেতেই।"

তিনি ছিলেন একজন নামকরা আইনজীবী। তিনি অনেক আলোচিত মামলাও জিতেছেন। আর সে-কারণেই তিনি আসলে বোম্বেতে তাঁর একটি ভিত্তি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সে-লক্ষ্যেই ১৯৩০ সালে তিনি সেখানে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন।"

এজন্য তিনি নিয়োগ করেছিলেন ওই সময়ের সেরা একজন আর্কিটেক্টকে। আসলে ১৯৪৭-৪৮ সালে কেউ ভাবতেই পারেননি যে মানুষের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসবে। আর সে-কারণেই তিনি এরপরেও বাড়িটির দেখভাল করেছিলেন।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মারা গেছেন ১৯৪৮ সালে, অর্থাৎ ভারত ভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার এক বছরের মধ্যেই। আর তখন থেকে খালিই রয়েছে তাঁর বাড়িটি।

এই বিভাগের আরো খবর

তেলাপোকার উৎপাতে অতিষ্ঠ?

ডেস্ক প্রতিবেদন: ছোট ছোট তেলাপোকাগুলো ঘরের বিভিন্ন জায়গায় যখন ঘুরে বেড়ায়, এদের তাড়াতে রীতিমতো যুদ্ধ করেও তেমন ‍উপকার পাওয়া যায় না। চাইলে...

ঘর থেকে জীবাণু দূর করার নিয়ম

ডেস্ক প্রতিবেদন: অনেকেই দিনের বেলা জানালায় পর্দা দিয়ে রাখেন। এমনকি সূর্যের আলো এসে ঘর গরম হয়ে যাবে, তা ভেবেও ভারী পর্দা ব্যবহার করেন অনেকে।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is