মাছির কামড়ে জিরাফ ও দু'টি বাঘ শাবকের মৃত্যু!

প্রকাশিত: ০২:০৫, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৩:৪৮, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

ফাহিম মোনায়েম: হর্স বা স্ট্যাবল ফ্লাই নামক মাছির ঝুঁকিতে রয়েছে মিরপুর চিড়িয়াখানার প্রাণীরা। জন্মের  মাত্র ছয়মাসের মাথায় মারা গেছে বাঘের দুই শাবক দুর্জয় ও অবন্তিকা। এর রেশ কাটতে না কাটতেই  মারা গেছে একটি জিরাফ শাবক। মুমূর্ষু রয়েছে একটি চিতাও। এই চিড়িয়াখানায় গত ৫ বছরে ট্রিপানোসোমিয়ায় মারা গেছে ৪টি বাঘ। তবে এ রোগ নির্ণয়ে মিরপুর চিড়িখানায় নেই কোনো ল্যাবের ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে বাঁচানো সম্ভব নয়, সেটা জেনেও  আগে থেকে সতর্ক ছিলনা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। 

করোনাকালে গত ২৬ মে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় একসঙ্গে জন্ম নিয়েছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার টগর ও বেলি জুটির প্রথম শাবক দুর্জয় আর অবন্তিকা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের উপস্থিতিতে গত ১৬ আগস্ট চিড়িয়াখানায় তাদের নাম রেখে জন্মনিবন্ধন অনুষ্ঠান করা হয়েছিল বেশ ঘটা করে।

জন্মের প্রায় ৬ মাসের মাথায় ২১ নভেম্বর দুর্জয় এবং ২২ নভেম্বর অবন্তিকা মারা যায়। চিড়িয়াখানায় রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকে পরীক্ষা করে আনতে হয়। সে জন্য ১৭ নভেম্বর অসুস্থতা ধরা পড়লেও আরো দু’দিন লেগে যায় রোগ নির্ণয় করতে। রিপোর্টে ধরা পরে, শরীরে ট্রিপানোসোমিয়াসিসের জীবাণু রয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলেছে, এক ধরনের মাছির কামড় থেকে তৈরি হওয়া এই রোগে তারা প্রাণ হারিয়েছে।

মিরপুর চিড়িয়াখানায় ট্রিপানোসোমিয়ায় ১৯৯০ সালে ৪টি এবং ২০১৬ সালে মারা যায় দুটি বাঘ শাবক। প্রাণী গবেষকেরা বলছেন, এটি বহিরাগত জটিল রোগ। দক্ষিণ আফ্রিকায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় এ রোগের অস্তিত্ব ধরা পড়ায় এখানকার অন্য বাঘ, সিংহ, জেব্রা, জিরাফসহ হরিণ জাতীয় প্রাণীতেও এই জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। 

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবী, সীমিত সাধ্য ও দক্ষতা দিয়ে তারা যথাসম্ভব চেষ্টা করছেন। চিকিৎসাব্যবস্থা আরও সহজ করার ব্যাপারেও ভাবা হচ্ছে। জানান চিড়িয়াখানা নিয়ে নতুন মাস্টারপ্ল্যানের কথাও। 

জানা যায়, প্রাণিচিকিৎসার জন্য চিড়িয়াখানায় ২০১১ সালে কেনা হয় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ। প্রাণি চিকিৎসার জন্য গড়ে তোলা হয় একটি হাসপাতালও। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কোনো ল্যাব না থাকায় অসুস্থ প্রাণীর রোগ নির্ণয়ে যেতে হয়  চিড়িয়াখানার বাইরে কেন্দ্রীয় প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রে। এদিকে, বাঘ শাবক অবন্তিকা-দুর্জয়ের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এই চিড়িয়াখানায় মারা গেছে একটি জিরাফ শাবকও। মুমূর্ষু রয়েছে একটি চিতাও। দক্ষ চিকিৎসক ও আধুনিক হাসপাতাল তৈরি না হলে, এভাবে আরো প্রাণী মারা যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

FM/MSI

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...