রোববারের নির্বাচনে সহিংসতায় ১১ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৮:০৯, ২৯ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৮:২৭, ২৯ নভেম্বর ২০২১

ডেস্ক প্রতিবেদন: সহিংসতা আর মৃত্যু থেকে রেহাই মেলেনি তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও। গেলো দু’দিনে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে সাত জেলায় এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে বিজিবির একজন সদস্যও রয়েছেন। এছাড়া রোববারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন ৩৪৭ ইউনিয়নে। আর আওয়ামী লীগ জিতেছে ৩৩৮টিতে। 

রোববার তৃতীয় ধাপে দেশের এক হাজারেরও বেশি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন একে মডেল নির্বাচন বললেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। আগের কয়েক দফার মতো এবারও ভোটকে কেন্দ্র করে রক্ত ঝরেছে বিভিন্ন স্থানে। প্রাণ গেছে অন্তত ১১ জনের। এরমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতায় নিহত হয়েছে তিনজন। রোববার উপজেলার ৩নং খনগাঁও ইউনিয়নের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, উত্তেজিত জনতা প্রিজাইডিং অফিসারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপর আক্রমণ করে। পরে ঘটনাস্থলে ইউএনও ও পুলিশের কর্মকতারা গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে বিজিবির সদস্যরা তাদের উদ্ধার করতে গেলে তাদের উপর আক্রমণ করে জনতা। এসময় তারা ইটপাটকেল ছোঁড়ার পাশাপাশি গুলিও চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি গুলি ছোঁড়ে। এতে কয়েকজন হতাহত হয়।

এদিকে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় রুবেল হোসেন নামে বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে উপজেলার গাঢ়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারী প্রাথমিক কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দিতে সহিংসতায় নিহত হয়েছে দুইজন। নির্বাচনী সহিংসতায় নরসিংদীর রায়পুরায় এক অটোরিকশা চালকসহ দুই জন নিহত হয়েছে। চার পুলিশসহ আহত হয়েছে ১০জন। এছাড়া, সদর উপজেলার চিনিশপুর, নজরপুর ও করিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরে নৌকা প্রতীকের এক সমর্থকের উপর হামলা চালায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। আহত ব্যক্তি পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে, যশোরের শার্শা ও খুুলনার তেরখাদায় মারা যান ২জন। এছাড়া, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে নাটোর, রংপুর ও ফেনীতে ১৩ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে রোববার তৃতীয় ধাপে দেশের ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্যন্ত ৬৯৪টি ইউনিয়ন পরিষদের বেসরকারি ফলাফলে ৩৪৭টিতে স্বতন্ত্র, ৩৩৮ টিতে আওয়ামী লীগ এবং ৮টিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হয়েছে। এরমধ্যে মাদারীপুরের ১৪টি ও শরীয়তপুরের ৭টি ইউনিয়নে দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়ায় সেখানে স্বতন্ত্র প্রর্থীরা জয়ী হয়েছেন।

এছাড়া ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়া এবং সহিংসতার ঘটনায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করায় তিনটি ইউনিয়নের ফল ঘোষণা করা হয়নি। লামমনিরহাটের চন্দ্রপুর ইউনিয়নে দুই প্রার্থী সমান সংখ্যক ভোট পাওয়ায় ফল অমিমাংসিত রয়েছে। আর ১০০টি ইউনিয়ন পরিষদে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।

SAI/MSI

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...