সুন্দরবনের শুঁটকিপল্লী প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশিত: ০২:১০, ২৭ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৩:০৩, ২৭ নভেম্বর ২০২১

আশিক মাহমুদ: সুন্দরবনের এক বিচ্ছিন্ন দীপের নাম দুবলারচর। যা দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি পল্লী হিসেবে পরিচিত। ৮০'র দশক থেকে দুবলারচরে চলছে শুঁটকির কারবার। প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মার্চ -এই পাঁচ মাস এখানে চলে মাছ ধরা ও শুকানোর বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই চরে লাখ লাখ জেলে ও শুটকি কারবারির জীবনযাত্রা কেমন? 

জেলেরা কেউ কেউ মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে গিয়ে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। রান্না, খাওয়া, ঘুম সবই এই ট্রলারে। তারপর মাছ নিয়ে দুবলারচরে ফিরতে শুরু করে জেলেরা। 

দুবলার চর মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। যার মোট আয়তন ৮১ বর্গমাইল। আলোরকোল, হলদিখালি, মাঝেরকিল্লা ও নারকেলবাড়িয়াসহ বেশকয়েকটি চর নিয়ে দুবলার চর গঠিত।  

১৯৮০ সালের পর থেকে এখানে চলছে শুঁটকির বাণিজ্য। সরকারের অনুমতি নিয়ে প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে মাছ ধরা ও সেই মাছ শুকিয়ে শুঁটকি বানানোর বিশাল কর্মযোগ্য। 

মৎস ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫ মাসের চুক্তিতে এখানে শ্রমিক নিয়ে আসে। সবাই পুরুষ। যাদের কেউ গভীর সমুদ্রে জাল টেনে মাছ ধরে আবার কেউ এই চরে সেই মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে। 

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিসিন পত্রের জন্য বিচ্ছিন্ন এই দীপের রয়েছে একটি বাজার। যার নাম দিয়েছে জেলেরা নিউমার্কেট। সৌরবিদ্যুতের কল্যাণে আধার কেটেছে এই দ্বীপের। 

দিন রাত হাড় ভাঙ্গা খাটুনির পরেও জেলেদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় খুব সামান্যই। কারণ মহাজনের ঋণের ফাঁদ আর প্রভাবশালীদের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে দুবলার চরের সবকিছু। 

AM/MSI

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...