অধিকতর তদন্তে আগের প্রতিবেদনের হুবহু নকল !!

প্রকাশিত: ০২:২৫, ১৭ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ০৫:০৯, ১৭ নভেম্বর ২০২১

আশিক মাহমুদ: একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালামাল ও যন্ত্রপাতি চুরির মামলায় পুলিশের প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে বাদি আপত্তি জানালে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয়দফা তদন্ত করে তার উর্ধতন কর্মকর্তা। কিন্তু অধিকতর তদন্তের নামে আগের প্রতিবেদন হুবহু কপি করে আদালতে জমা দিয়েছেন সিআইডির এক কর্মকর্তা। শুধু তাই নয় এক ব্যক্তির জবানবন্দি একাধিক কপি করে ভিন্ন ভিন্ন নামে একই বক্তব্য জমা দেন তিনি। 

রাজধানীর নতুন বাজারে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালামাল ও যন্ত্রপাতি চুরির মামলা আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে সিআইডির পরিদর্শক আব্দুল লতিফ। ২০২০ সালে ২৬শে আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি। প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকায় বাদি না রাজি দিলে আদালত একজন এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলাটি আবারও তদন্তের নিদের্শ দেন। পরে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন প্রায় এক বছর তদন্ত করে চলতি বছরের ১৪ই জুন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

এই দুই কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায় দ্তিীয় প্রতিবেদনটি প্রথম প্রতিবেদনের হুবহু কপি। 

মামলায় যেসব সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন তাও অভিন্ন। এএসপি জাহাঙ্গীর হোসেন রবিউল হাসান নামের এক সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর রকি মিয়া নামের আরেক জনের জবানবন্দিও লিপিবদ্ধ করেন তিনি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই রকি আর রবিউল একই ব্যক্তি। বাবার নাম, ঠিকানা সবই এক। আর রবিউলের দাবি, তার নামে যে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তার কিছুই তিনি বলেননি।

একই জবানবন্দি হুবহু কপি করে বিউটি আক্তার নামে আরেক সাক্ষীর জবানবন্দি হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিউটি আক্তারেরও দাবি, এই বক্তব্য তার নয়।

সিআইডির পরিদর্শক আব্দুল লতিফের দেয়া প্রতিবেদনটিই নিজে স্বাক্ষর করে আদালতে জমা দিয়ে দিয়েছেন এএসপি জাহাঙ্গীর হোসেন।

মামলার আরেক সাক্ষি ফয়সাল আলম জানান, সিআইডির কর্মকর্তাদের তিনি যা বলেছেন আর তদন্ত প্রতিবেদনে যা লেখা হয়েছে তা এক নয়।

তদন্তে এসব অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে সিআইডির ওই দুই কর্মকর্তার সাথেই যোগাযোগ করে বৈশাখীর প্রতিবেদক। পরিদর্শক আব্দুল লতিফ মোবাইল ফোনে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করবেন না। 

আর এএসপি জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনা শোনার পর থেকে দেখা করা তো দূরের কথা, আর ফোনই রিসিভ করেননি।

মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সিআইডির উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তারাও কোন বক্তব্য দেননি। 

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

loading...
loading...