হার্ট সুস্থ রাখতে দাঁতের যত্ন নিন

প্রকাশিত: ১২:০২, ১৪ অক্টোবর ২০২১

আপডেট: ১২:০২, ১৪ অক্টোবর ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট: হৃৎপিণ্ড অবিরাম কাজ করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে। এটিকে আমরা সবাই সুস্থ রাখতে চাই। তবু বুঝে না বুঝে এর ওপর অত্যাচার করি। এ কারণে বিশ্বে কার্ডিয়াক বা হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হৃদরোগ হওয়ার পেছনে নানা কারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মাড়ি রোগের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অনেকে এমনটা বিশ্বাস করেন না কারণ মুখের মধ্যকার সংক্রমণ হার্টে বা রক্তবাহিকাকে প্রভাবিত করে। মাড়ি বা দাঁতের গোড়ার সংক্রমণ সহজেই রক্তবাহিকার সঙ্গে মিশে শরীরের যে কোনো অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে আর হার্ট যেহেতু রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে তাই এর ঝুঁকিটাও বেশি। 

করোনারি আর্টারি ডিজিজ ও স্ট্রোক: 

মাড়ি রোগ থেকে জীবাণু ও তাদের তৈরি ক্ষতিকর পদার্থ রক্তবাহিকার মধ্যে সঞ্চালিত হতে পারে। ফলে যাদের উচ্চরক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কলস্টেরল, ধূমপায়ী, বাতজ্বর, কৃত্রিম ভাল্ব, জš§গত হার্টের রোগ, দৈহিক পরিশ্রম কম হয় তাদের রক্তনালির মধ্যকার স্থানটি চিকন করতে শুরু করে, যাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। এর ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত বা অক্সিজেন পায় না, তখন নানা জটিলতা তৈরি হয়। 

. হার্টে সংক্রমণ বা প্রদাহ: 

মাড়ির প্রদাহ থেকে ব্যাকটেরিয়া হার্টের অতি গুরুত্বপূর্ণ ভাল্বগুলোকে আক্রান্ত করতে পারে। গবেষণা বলে মাড়ির ব্যাকটেরিয়াকে হার্টের ভাল্বেও পাওয়া গেছে। যাদের কৃত্রিম ভাল্ব সংযোজিত বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের মুখের যতেœ কোনো অবহেলার সুযোগ  নেই। হার্টের ভেতরকার স্তরের প্রদাহ বা অ্যান্ডোকার্ডাইটিসের সঙ্গে মাড়ির রোগের যোগসূত্র পাওয়া যায়, দীর্ঘমেয়াদি মাড়ির প্রদাহ থেকে রক্তে সিথরিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যদিকে হার্টের ব্যথা নিচের চোয়ালে অনুভব হওয়ার অনেক ইতিহাস ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। 

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুষ্ক বা মাড়ি ফুলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, রক্ত তরলকরণ ওষুধ সেবনেও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে এমনটা হলে দ্রুত  ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ নিশ্চিত হয়ে ওষুধের বিষয় নিয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ জরুরি তানাহলে মুখের স্বাস্থ্য হুমকিতে থাকে।  

. সকালে নাস্তা ও রাতে খাবার পর দু’মিনিট ধরে দাঁতের পাঁচটি পৃষ্ঠ (সামনের, ভেতরের, চর্বনে ব্যবহৃত ও পাশাপাশি দু’দাঁতের মধ্যবর্তী পৃষ্ঠ) নিয়ম মেনে পরিষ্কার করতে হবে। দু’দাঁতের মধ্যে খাবার জমলে সাধারণ টুথ ব্রাশে এগুলো পরিষ্কার হয় না, টুথপিক বা কাঠির পরিবর্তে বাজারজাত ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। 

. চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার। 

.  ব্রাশের পর আঙুল দিয়ে আলতো করে মাড়ি ম্যাসাজ ও জিহŸা পরিষ্কার।

. চিনির তৈরি খাবারকে কমাতে হবে, চিনিকে সাদা বিষ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়, মিষ্টিজাতীয় খাবার মুখের ও শরীরের জন্য অস্বাস্থ্যকর। এ ধরনের খাবারকে কমিয়ে মৌসুমি ফরমালিনমুক্ত তাজা ফলে উৎসাহিত হতে হবে। 

. শরীরের অন্য রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

. প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ থেকে ৪৫ মি. ব্যায়াম বা দ্রুত হাটতে হবে।

. ছয় মাস অন্তর বা মুখের মধ্যে যেকোনো অস্বাভাবিকতায় অনুমোদিত বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

. ধূমপান ও পান জর্দামুক্ত থাকতে হবে। 

. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন ক্ষতির কারণ হতে পারে। 

ACS/MSI

এই বিভাগের আরো খবর

‘ওমিক্রণ খুব বেশি মারাত্মক নয়’

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনার নতুন ধরণ...

বিস্তারিত
ধনে পাতার উপকারিতা

অনলাইন ডেস্ক: ধনেপাতা খুবই পরিচিত...

বিস্তারিত
তেঁতুলের অসাধারণ পুষ্টিগুণ

অনলাইন ডেস্ক: তেঁতুল দেখলেই জিভে পানি...

বিস্তারিত
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক: বেশিরভাগই মানুষই উচ্চ...

বিস্তারিত
ওমিক্রন মোকাবেলায় চাই সমন্বিত উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আফ্রিকার ৭টি দেশ...

বিস্তারিত
দেশে করোনায় আরও ৩ জনের মৃত্যু 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায়...

বিস্তারিত
রোগ প্রতিরোধে জাফরানের ব্যবহার

অনলাইন ডেস্ক: জাফরান হল বিশ্বের...

বিস্তারিত
দেশে করোনাভাইরাসে ৭ জনের মৃত্যু 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায়...

বিস্তারিত
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যা খাবেন

ডেস্ক প্রতিবেদন: ডায়াবেটিসে...

বিস্তারিত
দেশে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ ও ডায়রিয়া

লাবণী গুহ : দেশের বিভিন্ন জেলায় শীত...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *