ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-19

, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

পাটের হারানো রাজত্ব ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ০৬:০৬ , ১৩ মার্চ ২০১৭ আপডেট: ০৬:০৬ , ১৩ মার্চ ২০১৭

পাটের হারানো বাজার, সুনাম ও ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের। পাট শিল্পের রাজত্ব ফিরে পেতে সরকার আন্তরিক ও মনোযোগী হওয়ায় দেখা দিয়েছে সম্ভাবনা। পাট বিষয়ক সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যে এ সম্ভাবনার কথা বলে জানা গেছে।

রাজত্ব হারানো রাজার মতোই সোনার বাংলার সোনালী আঁশ- পাট বহু আগে তার স্বর্ণালী যুগ হারিয়েছে। এক সময় কৃষি প্রধান বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিলো পাট। কাঁচাপাট ও পাটজাত দ্রব্য ছিলো শীর্ষ রপ্তানি পণ্য। কিন্তু গত কয়েক দশক আগে থেকেই এই শিল্প মৃতপ্রায়। যা  দেশের এক বড় দুঃখ। পাটশিল্পের রাজত্ব ফিরে পাবার সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভুমিকার কথা শোনা যাচ্ছে। 

‘পাটের সুতোয় বুনি শাড়ি,গামছা আর তফন... পাটের সুতোয় সেলাই করি কৃষকের জীবন’--গানের এই কথাগুলোর মতোই যেন ছিলো পাটের সুতোয় বোনা বাঙলা ও বাঙালির জীবন। সম্পর্কটা এতোটাই গভীর ছিলো যে, তর্ক হতে পারে ‘সোনার আঁশের সোনার বাংলা’ না-কি ‘সোনার বাংলার সোনালী আঁশ’।

 ইতিহাসে ১৫৭৫ সাল থেকে এই অঞ্চলে পাটের ব্যবহার দেখা যায়। আফ্রিকা, ইন্দো-মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়া, মিশর সিরিয়া হয়ে এখানে আসলেও বাংলাদেশ-ই সর্বোৎকৃষ্ট পাট উৎপাদনের গৌরব অর্জন করে। সেই ধারাবাহিকতায় বিগত শতকে কাঁচা পাটের যেমন বিশেষ কদর তৈরি হয় তেমনি পাটজাত পণ্যেরও বাজার সম্প্রসারিত হয় দেশে দেশে। পাটের হাত ধরে ১৯৫০ থেকে ’৭০ সাল পর্যন্ত দেশে ৭৭টি জুট মিল গড়ে ওঠে। এই সময়টাকে পাটের স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতিহাস বলে স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশের পাট দিয়ে পাকিস্তানের ভাগ্যের উন্নয়ন করা হয়েছে। একাত্তরে স্বাধীনতার পর জাতীয় অর্থনীতিতে পাটের ইতিবাচক ভুমিকা অব্যাহত থাকার আশা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।

স্বাধীনতার পরপর ১৯৭২-’৭৩ অর্থবছরে কাঁচাপাট ও পাটজাতপণ্য রপ্তানী করেনি করে ৩ ’শো মিলিয়ন ডলার আয় হয়। সেসময় বিশ্বের উৎপাদিত পাটের ৮০ ভাগ দেশে উৎপাদিত হতো এবং পাটের আন্তর্জাতিক বাজারের ৬২ শতাংশ ছিলো বাংলাদেশের দখলে। এমন অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থা থেকে কেবলই ধারাবাহিক উন্নয়ন হবার প্রত্যাশা থাকলেও ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত কখনোই এই খাতের রপ্তানী আয় সাড়ে ৫’শো মিলিয়ন ডলারের বেশি করা সম্ভব হয়নি। বরং কখনো তা’ ৩’শো মিলিয়ন ডলারের নীচেও নেমে গেছে।

কিন্তু ২০০৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত হঠাৎ করেই পাট শিল্পের এই হতাশার গল্পে যেন আলোর আভা ছাড়াতে শুরু করে। তবে, কেন এই শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছিলো এবং তা কত ধরণের বিপদ এনেছে তা’ নিয়ে আজো চলছে গবেষণা- বিশ্লেষণ।

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is