১৬টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, তিস্তা ব্যারেজে রেড অ্যালার্ট আপডেট: ০৪:৪৬, ১৩ আগস্ট ২০১৭

ডেস্ক প্রতিবেদন: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিভারি বর্ষণে তিস্তা, ধরলা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তীব্র স্রোতে তিস্তা ব্যারেজ হুমকির মুখে পড়ায় ব্যারেজ এলাকায় গতকাল শনিবার রাত থেকে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

কয়েক স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নদীর পানিতে লালমনিরহাটের প্রায় ১০০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে বুড়িমারি স্থলবন্দর।

নতুন করে বন্যাকবলিত হয়েছে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, সিলেট সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা।

লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলা শহররক্ষা বাঁধসহ চারটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে ৮০টি গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দু লক্ষাধিক মানুষ।

আদিতমারী উপজেলার চওড়াটারী গ্রামে পানিতে ডুবে মারা গেছে একটি শিশু।

বিভিন্ন উপজেলার সাথে জেলার সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। ফলে বুড়িমারি স্থল বন্দরের কার্যক্রম প্রায় স্থবির।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং বন্যাদুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম ফেরিঘাট পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ওপরে থাকায় সদর উপজেলা, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজারহাটের কালুয়ার চরে বাঁধ ভেঙে শিশুসহ দুজন নিখোঁজ রয়েছে।

গাইবান্ধায় সব নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের ১০টি ইউনিয়ন দ্বিতীয় দফা প্লাবিত হয়েছে। নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁওয়েও প্লাবিত হয়েছে বেশকিছু নিম্নাঞ্চল।

দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধের ৫০ মিটার অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধ মেরামতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বিজিবি। জেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন উপজেলার সাথে বন্ধ হয়ে গেছে এ জেলার সড়ক যোগাযোগ।

নওগাঁর মান্দায় আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫০টি পরিবাণ

যমুনা নদীর পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার মানুষ আবারও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

জামালপুরেও নতুন করে বন্যায় ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নিতাই নদীর পাড় ভেঙে ৩০টি গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে। মালামাল ও গবাদিপশুসহ উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে অনেক মানুষ।

পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী, মগড়া নদীসহ জেলার সব কয়টি নদনদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় দুর্গাপুর উপজেলায় প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩০টি গ্রাম। ডুবে গেছে ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এদিকে সুরমা, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি বাড়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব এলাকার ৫০ হাজার পরিবারের দু লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি ওঠায় জেলার ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ফেরিস্বল্পতার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াসহ নৌরুটগুলোতেও ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। শুধুমাত্র পাটুরিয়া ঘাটেই পারের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ যানবাহন।
 

 

Publisher : .