ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮, ২ শ্রাবণ ১৪২৫

2018-07-16

, ৩ জিলকদ্দ ১৪৩৯

মুক্তামণির সফল অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকদের ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ০৮:৩৭ , ১২ আগস্ট ২০১৭ আপডেট: ০৮:৩৭ , ১২ আগস্ট ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামণির অস্ত্রোপচার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তাকে রাখা হয়েছে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ)-এ। এদিকে, মুক্তামণির সফল অস্ত্রোপচার হওয়ায় চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বৈশাখী অনলাইনকে এ কথা জানান।

আজ শনিবার সকালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে এ অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। প্রায় ৩ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডাক্তার সামন্ত লাল সেন জানান, মুক্তামণি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে বলেও জানান ডা. সেন।

সকাল সোয়া ৮টায় মুক্তামণিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার অপারেশন থিয়েটার (ওটি)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। কঠিন এই অস্ত্রোপচার শেষ হয় বেলা সোয়া ১১টার দিকে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট বায়োপসির জন্য মুক্তামণির প্রথম অপারেশন করা হয়। এ বায়োপসি রিপোর্টে মুক্তামণির হাতের রক্তনালীতে টিউমার হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের ওটি'র বারান্দায় মুক্তামণির বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন। তাঁদের সাথে সেখানে গণমাধ্যম কর্মীরাও আছেন।

গত মঙ্গলবার মুক্তামণির চিকিৎসার জন্য গঠিত ১৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তার বায়োপসি রিপোর্ট পর্যালোচনা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এক সপ্তাহ আগে গত ৫ আগস্ট সকালে মুক্তামনির বায়োপসি করা হয়। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জন ও একই প্রতিষ্ঠানের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা এ অস্ত্রোপচারে অংশ নেন।

গত মাসে সাতক্ষীরা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তামণিকে সরকারি উদ্যোগে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুটির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার খরচ বহনের কথা জানান।

মুক্তামণিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমের তাঁর শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেখেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারে করতে আগ্রহী নন বলে জানান। তখন ঢামেকের চিকিৎসকরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তামনির অস্ত্রোপচারে এগিয়ে আসেন।

মুক্তামনি সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে। তার এখন ১২ বছর বয়স। ছয় মাস বয়সে তার ডান হাতে একটি গোটা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সেটি তার হাত থেকে বড় হয়ে যায়। ফলে চলাফেরা করতে সমস্যা দেখা দেয়। গত প্রায় তিন বছর ধরে সে শয্যাশায়ী ছিল। গণমাধ্যমে এ খবর আসার পর সবাই মুক্তামণির রোগটির ব্যাপারে জানতে পারে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন অর্থ সচিব রউফ তালুকদার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অর্থ বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসা অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার অর্থ সচিবের দায়িত্ব পেলেন। তাকে অর্থ বিভাগের...

মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের পরিপত্র কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারণ করে জারি করা পরিপত্র কেন আইনগত...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is