দেশে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হচ্ছে না আপডেট: ১০:৩৭, ১২ মার্চ ২০১৭

 

৪৫ বছরে দেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে চিকিৎসা সেবার ব্যাপক বিস্তার ও সমৃদ্ধি ঘটলেও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আসেনি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। ফলে, মেডিকেল বর্জ্য এখন দেশের জনগনের স্বাস্থ্যঝুঁকির বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সামান্য মাত্রায় মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ করা হলেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তা খোদ রাজধানীতেই হচ্ছে না। স্বাস্থ্যখাতের কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এসব কথা জানা গেছে। 

স্বাধীনতার পর বেশ কয়েক দশক পর্যন্ত খোদ রাজধানী ঢাকা শহরেই রাস্তার পাশে উন্মুক্ত স্থানে মেডিকেল বর্জ্য অবলীলায় ফেলে রাখা হতো। অতি ঝুঁকিপূর্ণ জীবাণুু বহনকারী এসব বর্জ্যে অপারেশন করে ফেলে দেয়া মানবদেহের অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও পাওয়া যেতো। টোকাইদের মাধ্যমে সংগৃহীত এসব বর্জ্য থেকেই নানান চিকিৎসা সামগ্রী আলাদা করে তা পুনরায় বিক্রি ও ব্যবহার করার এক ভয়াবহ চর্চাও ছিলো, যা থেকে রোগীর শরীরে আরো রোগ ছড়াতো।

সেই ভীষণ উদ্বেজনক পরিস্থিতি থেকে মেডিকেল বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিগত ১৯৮০’র দশক থেকে ভাবনা শুরু হলেও নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ও শেষের দিকে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার সহযোগিতায় অতি ক্ষুদ্র পরিসরে এই ব্যবস্থাপনার চর্চা শুরু হয়। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, গত দুই দশকে এই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা, সে-তুলনায় এর অগ্রযাত্রা খুব সামান্যই হয়েছে। কয়েক দশক আগের মতো এখন হয়তো প্রকাশ্যে, রাস্তার ধারে মেডিকেল বর্জ্য দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর পরে থাকতে দেখা যায় না। তবে, যে-বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করার কথা, তা খোদ রাজধানীতেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে জটিল বা ক্রিটিক্যাল ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করে। এই ব্যবস্থাপনাকে সুচারু করতে স্থানীয় সরকার এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৮ সালে মেডিকেল বর্জ্য নীতিমালাও প্রণীত হয়। কিন্তু, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা খাতে কারো কোনো সমীক্ষা নেই, দেশে মোট কী পরিমাণ মেডিকেল বর্জ্য প্রতিদিন বা মাসে বা বছরে তৈরি হয়। তবে, তা বছরে যে কয়েক লক্ষ টনের কম নয় তা সহজেই অনুমেয়।

 

Publisher : Abdul Majid