ভুলিনি বাংলাদেশ, ভুলিনি অত্যাচার, ভুলিনি নারকীয় বর্বরোচিত গণহত্যা: স্পিকার  আপডেট: ০৬:২০, ১২ মার্চ ২০১৭

সংসদ সদস্যদের সম্মতিক্রমে জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস স্বীকৃতি পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চায়, ভুলিনি বাংলাদেশ, ভুলিনি অত্যাচার, ভুলিনি নারকীয় বর্বরোচিত গণহত্যা।’ গতকাল শনিবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

মহান মার্চ মাসের অর্ন্তনিহিত দিক তুলে ধরে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, "অগ্নিঝরা মার্চ হচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু দেন তার কালজয়ী ভাষণ। এ ভাষণে তিনি বলেছিলেন, দাবায়ে রাখতে পারবানা। আর এখন সত্যিই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে অদম্য গতিতে।"

১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের কথা জানিয়ে স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বলেই জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের। 

স্পিকার বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানী বাহিনী এ অঞ্চলে চালায় নারকীয় বর্বর গণহত্যা। ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু তার এক বার্তায় বলেন, ‘ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ হতে বাংলাদেশ স্বাধীন।’

স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী তার সমাপনী ভাষণে স্বাধীনতাযুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ শহীদ, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে খুন হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ সকল শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। স্মরণ করেন সদ্যপ্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং আততায়ীর গুলিতে নিহত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করার জন্য সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান স্পিকার। স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে দেশের উন্নয়নের গতিশীলতার কথা বলেছেন। বলেছেন, উন্নয়নের গণতন্ত্রের কথা।

কক্সবাজার জেলার নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের প্রত্যেকটি জেলার চিত্র পাল্টে যাবে। এ থেকে একথাই বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বর্তমানের উন্নয়নের কথাই বলছেন না, তিনি ভবিষ্যতের উন্নয়ন বিনির্মাণের কথাও বলছেন।

দশম জাতীয় সংসদের প্রত্যেকটি অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার জন্য সংসদে বিরোধী দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান স্পিকার। তিনি বলেন, বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি ভেঙ্গে দিয়েছে বর্তমান সংসদের বিরোধী দল। সংসদ কার্যক্রমকে সচল রাখতে সংসদ সদস্যদের ভুমিকার প্রশংসাও করেন স্পিাকার।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজি বাস্তবায়ন, বাল্য বিবাহ রোধে ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন-আইপিইউ এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী আ্যাসোসিয়েশন-সিপিএ’এর সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ বিষয়ে নেয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যরা যথাযথ ভুমিকাও রাখছেন। সায়মা ওয়াজেদ জয় অটিজম বিষয়ক কার্যক্রমের চিত্র সংসদে তুলে ধরেছিলেন, সে কথাও উল্লেখ করেন স্পিকার তাঁর সমাপনী বক্তব্যে।

স্পিকার জানান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আয়োজনে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আয়োজনে কমনওযেলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়শেনের অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হবে।

বসন্তের আগমনী বার্তা প্রদান করে একটি নিউজ পোর্টালের  প্রতিবেদন সংসদের তুলে ধরেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্রতিবেদনের শিরোনামটি ছির- ‘বসন্ত ছুঁয়ে গেল সংসদ অধিবেশনকে’। আর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ‘স্পিকার বাসন্তী শাড়ি পড়ে অধিবেশন পরিচালনা করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জামদানী শাড়ির পার ছিল বাসন্তী রংয়ের।’ স্পিকার এ প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা নারী মা জাতি। যে পথ দিয়ে বিচরণ করি, সেখানে ছড়িয়ে দিই আমাদের মমত্ববোধ ও কোমল ছোঁয়া। সেই আভায় রাঙিয়ে তুলি আমাদের পারিপার্শ্বিকতা। আর তারই প্রতিধ্বনি শুনতে পাই রবীন্দ্রনাথের গানে-- ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার’....।"

নারীর অকৃত্রিম ও প্রকৃত চারিত্রিক বর্ণনা এমন চমৎকারভাবে তুলে ধরার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সকল সংসদ সদস্যের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

স্পিকার বলেন, একবিংশ শতাব্দী হচ্ছে এশিয়ার জন্য। উদীয়মান বৈশ্বিক অর্থনীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হতে হচ্ছে এশিয়া। বাংলাদেশ হতে পারে এর অন্যতম অংশীদার।

তিনি বলেন, আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণ প্রজন্মকে সক্ষম করে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করার আহ্বান জানান স্পিকার তার সমাপনী বক্তব্যে।

সবশেষে রাষ্ট্রপতির চলতি অধিবেশন সমাপ্তির আদেশটি পড়ে শোনান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।