চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের বর্ণাঢ্য জীবন

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০২:৫৯, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ফাহিম মোনায়েম: ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলার চলচ্চিত্র প্রিয় মানুষের কাছে ১৯৭৪ সালে আলোচনা আসেন দক্ষ অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধূরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু তার। ৮০ বছর বয়সী এ অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান অভিনয়ে সাফল্য লাভ করলেও তিনি হতে চেয়েছিলেন সাহিত্যিক। প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনয় করেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অর্জন করেছেন অসংখ্য সম্মাননা। চলে গেলেন এটিএম শামসুজ্জামান, তবে তার অভিনয়ের মাধ্যমে বেঁচে থাকবে শ্রোতার হৃদয়ে হৃদয়ে, বহুকাল। 

বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে যে কয়েকজন অভিনেতা নিজস্ব অভিনয় গুনে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম দক্ষ অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেতা ছিলেন পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার।

এটিএম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার ভোলাকোটের বড় বাড়ি। তার বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল, তিনি শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। 

এটিএম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবন শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধূরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন জলছবি চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এই ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারৃকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। 

অভিনয় জীবনের শুরুটা হয় ষাটের দশকে টিভি নাটকে ও মঞ্চে অভিনয় মধ্যদিয়ে। চলচ্চিত্র পর্দায় অভিনেতা হিসেবে আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। প্রথম দিকে চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে শুরু করলেও খল অভিনেতা হিসেবেই জনপ্রিয়তা পান এটিএম। 

১৯৭৪ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আলোচনা আসেন। ২০০৬ সালে প্রথম পরিচালনা করেন শাবনূর-রিয়াজ জুটির ‘এবাদত’ নামের ছবিটি। এই পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন এবং প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনয় করেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘আলফা’। 

১৯৮৭ সালে অপেক্ষা চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচ বার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক।  প্রবীণ এই চলচ্চিত্র অভিনেতার প্রয়াণে শোকের ছায়া চলচ্চিত্রাঙ্গনের সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে।


 

এই বিভাগের আরো খবর

অভিনেতা শাহীন আলম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: অভিনেতা শাহীন আলম...

বিস্তারিত
মা হতে চলেছেন শ্রেয়া ঘোষাল

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি বলিউডে মা...

বিস্তারিত
সংগীত শিল্পী জানে আলম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংগীত শিল্পী জানে...

বিস্তারিত
বনানীতে সমাহিত লিলি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বস্তরের...

বিস্তারিত
বিজেপিতে যোগ দিলেন শ্রাবন্তী 

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের সরকার দলীয়...

বিস্তারিত
সুকান্তের মেলায় উৎসবের আমেজ

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা: গোপালগঞ্জের...

বিস্তারিত
অমিতাভ বচ্চনের দ্রুতই অস্ত্রোপচার

অনলাইন ডেস্ক: আবারও অসুস্থ বর্ষীয়ান...

বিস্তারিত
শ্রীদেবীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বলিউডের কিংবদন্তী...

বিস্তারিত
ফকির আলমগীরের ৭১তম জন্মবার্ষিকী পালিত

গাজীপুর সংবাদদাতা: একুশে পদকপ্রাপ্ত...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *