মহানায়িকা সুচিত্রার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:৫১, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১২:৫১, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

অনলাইন ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী পাবনার মেয়ে সুচিত্রা সেনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। রূপ, লাবণ্য, আকর্ষণীয় শারীরিক গড়ন এবং অতুলনীয় অভিনয় দিয়ে কোটি হৃদয়ে আজও সমুজ্জ্বল সুচিত্রা সেন। বাংলা সিনেমাকে তিনি নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। 

তিনি ছিলেন রহস্যময়ী। তবে সব রহস্যের ইতি টেনে কোটি ভক্তকে চোখের জলে ভাসিয়ে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি।

সুচিত্রা সেনের প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের বৃহত্তর পাবনার সিরাজগঞ্জ মহকুমার ভাঙাবাড়ি গ্রামে নানাবাড়িতে তার জন্ম। পাবনা শহরের বাড়িতে কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান তিনি।

বড়পর্দায় সুচিত্রার যাত্রা শুরু হয় ১৯৫২ সালে। সব মিলিয়ে ৬০টি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ৫৩টি এবং হিন্দি ভাষার ৭টি সিনেমায় তাকে দেখা গেছে। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘শেষ কোথায়’ হলেও মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম বাংলা সিনেমা ‘সাত নম্বর কয়েদি’। আর প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘দেবদাস’ মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালে।

১৯৫৪ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ও ‘অগ্নিপরীক্ষা’ সিনেমা সুচিত্রাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়।

রূপালি পর্দায় সুচিত্রা সেনের নায়ক হিসেবে অভিনয় করে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছিলেন মহানায়ক উত্তম কুমার। উত্তম-সুচিত্রা জুটির ৩০টি বাংলা সিনেমা সাফল্য পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সবার উপরে’, ‘পাপমোচন’, ‘শিল্পী’, ‘সাগরিকা’, ‘পথে হল দেরি’, ‘হারানো সুর’, ‘গৃহদাহ’, ‘প্রিয় বান্ধবী’ ইত্যাদি। 

অভিনয়ে আসার আগেই সংসার জীবন শুরু হয় সুচিত্রার। ১৯৪৮ সালে কলকাতার শিল্পপতি আদিনাথ সেন তনয় দিবানাথ সেনের সঙ্গে তিনি ঘর বাঁধেন। তার একমাত্র মেয়ে মুনমুন সেন। দুই নাতনি রাইমা সেন ও রিয়া সেনও অভিনেত্রী।

১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাত পাকে বাঁধা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান মহানায়িকা। ১৯৭২ সালে পান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’। এছাড়া ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলাবিভূষণ সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে। 

সুচিত্রা সেন ছিলেন অভিমানী। কোন এক অজানা কারণে প্রায় ৩৬ বছর তিনি ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে। কলকাতায় একাকী থাকতেন বালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে। স্বেচ্ছা নির্বাসনে গিয়ে রহস্যময়ী ছিলেন আমৃত্যু।

তবে গোপাল কৃষ্ণ রায় নামের এক সাংবাদিক বলেছিলেন, ১৯৭৮ সালে সুচিত্রা সেন প্রণয় পাশা নামে একটি সিনেমায় সবশেষ অভিনয় করেন, যেটি ফ্লপ হয়। এতে তিনি দারুণভাবে ভেঙে পড়েন, কষ্ট পান এবং চলে যান বেলার মাঠে রামকৃষ্ণ মিশনে- যেটা কলকাতার বাইরে অবস্থিত। সেখানে তার সঙ্গে দেখা হয় পবিত্র ধর্মগুরু ভারত মহারাজের। দীর্ঘ সময় সুচিত্রা তার সঙ্গে কথা বলেন। আমি তার মুখে শুনেছি, তিনি ভারত মহারাজের পায়ের কাছে বসে অনেক কেঁদেছিলেন। ভারত মহারাজ তাকে বলেছিলেন, মা অর্থলিপ্সু লোভী হইও না। এবং আমি মনে করি, এটাকে সুচিত্রা সেন আমলে নিয়ে নিজেকে নিভৃতচারী করে রাখেন। 

২০১৪ সালে পাবনা শহরে সুচিত্রা সেনের বাড়ি দখলমুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের ০৬ এপ্রিল দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় কিংবদন্তি মহানায়িকা সুচিত্রা সেন সংগ্রহশালাটি। 

 

এই বিভাগের আরো খবর

মা হতে চলেছেন শ্রেয়া ঘোষাল

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি বলিউডে মা...

বিস্তারিত
সংগীত শিল্পী জানে আলম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংগীত শিল্পী জানে...

বিস্তারিত
বনানীতে সমাহিত লিলি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বস্তরের...

বিস্তারিত
বিজেপিতে যোগ দিলেন শ্রাবন্তী 

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের সরকার দলীয়...

বিস্তারিত
সুকান্তের মেলায় উৎসবের আমেজ

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা: গোপালগঞ্জের...

বিস্তারিত
অমিতাভ বচ্চনের দ্রুতই অস্ত্রোপচার

অনলাইন ডেস্ক: আবারও অসুস্থ বর্ষীয়ান...

বিস্তারিত
শ্রীদেবীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বলিউডের কিংবদন্তী...

বিস্তারিত
ফকির আলমগীরের ৭১তম জন্মবার্ষিকী পালিত

গাজীপুর সংবাদদাতা: একুশে পদকপ্রাপ্ত...

বিস্তারিত
আবারো ছেলে সন্তানের মা হলেন কারিনা

বিনোদন ডেস্ক: দ্বিতীয় সন্তানের মা...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *