বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ২২ জন কারাগারে

প্রকাশিত: ০৬:০৩, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০৮:৩০, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

দিনাজপুর সংবাদদাতা: বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা আত্মসাতের মামলায় কোল মাইনিং কোম্পানির লিমিটেডের সাবেক ছয়জন ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২২ জনের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ (বুধবার) বিকেলে আদালত থেকে আসামীদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

আজ মামলার নির্ধারিত তারিখে ওই ২২ জন কর্মকর্তা দিনাজপুরের স্পেশাল জজ মোঃ মাহমুদুল করীমের আদালতে হাজির হলে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এতথ্য নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. ইস্রাফিল। আদালত আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এই মামলার অভিযোগ গঠনে শুনানির দিন ধার্য করেছে।

অভিযুক্ত সাবেক ছয় এমডি হলেন আবদুল আজিজ খান, খুরশীদুল হাসান, কামরুজ্জামান, আমিনুজ্জামান, এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও হাবিব উদ্দিন আহমেদ।আরেক আসামি সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমান ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

অন্য আসামিরা হলেন সাবেক জিএম (প্রশাসন) মো. শরিফুল আলম, মো. আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী (মাইন অপারেশন বিভাগ), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান হাওলাদার, মো. আরিফুর রহমান (ম্যানেজার, মেইন্টেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন), নিরাপত্তা বিভাগের ম্যানেজার সৈয়দ ইমাম হাসান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, মেইন্টেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ডিজিএম মো. মোর্শেদুজ্জামান, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান, মাইন ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মো. জাহেদুর রহমান, ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক ডিজিএম সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ ও মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার মো. শোয়েবুর রহমান, স্টোর ডিপার্টমেন্টের ডিজিএম একেএম খালেদুল ইসলাম, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজার অশোক কুমার হালদার ও মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ডিজিএম মো. জোবায়ের আলী।

এর আগে গতবছর ২৪ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামসুল আলমের পক্ষে দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন এবং আদালত গত বছরের ১৫ অক্টোবর চার্জশিট আমলে নেন।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত (মেয়াদে) বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ঘাটতিকৃত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭.৯৯ মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাতে জড়িত থাকে। যার বাজার মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা। আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

খনি থেকে কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির পক্ষে ম্যানেজার (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেছিলেন। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় দুদককে। দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ সামসুল আলম এই তদন্ত শেষে চাজশিট তৈরী করেন। চার্জশিটে এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জনকে আসামি করা হয়।

এছাড়া তদন্তে নতুন করে ৭ সাবেক এমডিসহ ৯ জনের নাম বেরিয়ে আসে। এনিয়ে চার্জশীটে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্তু একজন সাবেক এমডি মারা যাওয়ায় তাকে বাদ দিয়ে বর্তমানে এই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী ২২ জন।

এই বিভাগের আরো খবর

হত্যা মামলায় নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা: মানিকগঞ্জের...

বিস্তারিত
ঝিনাইদহে দুই স্বর্ণ পাচারকারী আটক

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা: অবৈধভাবে ভারতে...

বিস্তারিত
টেকনাফে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকনাফে ১৫ কোটি ৬০...

বিস্তারিত
ইউএনও’র উপর হামলা; এক আসামির বিচার শুরু

দিনাজপুর সংবাদদাতা: সরকারি বাসায়...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *