নির্যাতিত শিশু আদুরি: মামলার রায় কাল আপডেট: ০৯:৫৫, ১৭ জুলাই ২০১৭

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: শিশু গৃহকর্মী আদুরির ওপর পাশবিক নির্যাতনের মামলায় রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। ২০১৩ সালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসায় নির্যাতনের পর আদুরিকে ফেলে রাখা হয় একটি ডাস্টবিনে। পরে পথচারীরা মৃতপ্রায় অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। মৃত্যুর হাত থেকে সেদিন বেঁচে গেলেও বর্তমানে খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই আদুরি। পটুয়াখালীর জৈনকাঠীতে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তার। তার চিকিৎসাও বন্ধ।

২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীর একটি বাড়িতে শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেন গৃহকত্রী নওরীন জাহান নদী। এরপর তাকে মৃত ভেবে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় রেললাইনের পাশে ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয়।

সেখান থেকে পথচারীরা আদুরিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। উদ্ধারের সময় তার শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। নির্যাতনের কথা মনে করে এখনও আঁতকে উঠে ছোট্ট এই মেয়েটি। আদুরি জানায়, তার সমস্যাগুলো এখনও দূর হয়নি। সে ঠিকমত কিছু করতে পারে না। সে আরও বলে ‘আমার যে ক্ষতি হয়েছে আমি তার বিচার চাই।’

ওই ঘটনার পর ২৬ সেপ্টেম্বর আদুরির মামা বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেন। এতে নির্যাতনকারী নওরীন জাহান নদী, তার স্বামী সাইফুল এবং নদীর মা ইসরাত জাহানসহ পাঁচ জনকে আসামি করা হয়। পরে নদী ও তার মায়ের নামে আদালতে চার্জশীট দেওয়া হয়। আদালতে আদুরিকে নির্যাতনের কথা স্বীকারও করেন তারা।

মামলার যুক্তি তর্কের শুনানি শেষে ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার ১৮ জুলাই এ মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

এদিকে, আদুরিকে উদ্ধারের পর, ওই বছরই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে পটুয়াখালীর জৈনকাঠীতে চার কাঠা জমি কিনে দেওয়া হয়। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করলেও অর্থাভাবে বন্ধ রয়েছে আদুরির চিকিৎসা। তাই দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করছে তার পরিবার।

আদুরির মা বলেন, ‘নদীতো জেল খাটছে, সে বের হবার চেষ্টা করছে। সে তো বের হবেই, কিন্তু আমার আদুরি কি করে ভালো হবে? ওষুধ তো ঠিকমতো খাওয়াইতে পারি না। আদুরি চিল্লা চিল্লি করে, মাগো আমার এখানে চুলকায় বেদনা করে।’

নির্যাতিত শিশু আদুরি চায় পড়ালেখা শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। হাল ধরতে চায় পরিবারের। তাই অসহায় আদুরির পাশে দাঁড়াতে সবাইকেই এগিয়ে আসার আহবান জানান স্বজনেরা।