যত্রতত্র বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে বগুড়া শহরের সৌন্দর্যহানি আপডেট: ০৭:১৮, ১৭ জুলাই ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে বগুড়া শহর। যত্রতত্র স্থাপন করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির এসব বিলবোর্ড। মানা হচ্ছে না সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা। সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি ঝুঁকিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব বিশাল বিলবোর্ড। এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শহরের বাসিন্দারা। এদিকে, বগুড়ার মেয়র বললেন, পৌরসভার আর্থিক দিক বিবেচনা করেই এসব বিলবোর্ড স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া শহরজুড়ে বিলবোর্ড স্থাপন দিনদিন বাড়ছেই। জায়গার অভাবে কোথাও কোথাও একটির সঙ্গে ঘেঁষে তোলা হচ্ছে আরেকটি বিলবোর্ড।

শুধু নান্দনিক বিবেচনাতেই নয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি এসব বিলবোর্ড। সম্প্রতি ঝড়ের কারণে শহরের চারমাথায় বিলবোর্ডের নিচে চাপা পড়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর কয়েকদিনের মধ্যেই বিলবোর্ডে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান এক শ্রমিক। বছর খানেক আগেও এমন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুজন পথচারী। তারপরও বিলবোর্ড স্থাপন নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ শহরের বাসিন্দারা।

বগুড়া শহরের নাগরিকরা বলেন, ‘‘বিলবোর্ডের কারণে শহরের সৌন্দর্য অবশ্যই নষ্ট হচ্ছে। যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে বিলবোর্ডগুলো লাগানো হয়েছে। ফলে‘দুর্ঘটনা ঘটছে। এ জায়গা থেকে আমরা নগরবাসী পরিত্রাণ চাই।’’

এ ব্যাপারে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত বিলবোর্ড অপসারণের দাবি জানালেন বগুড়া শহরের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বগুড়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমান হেলাল বলেন, ‘এই বিলবোর্ডগুলি জনবহুল এলাকায় একদম রাস্তা ঘেঁষে না করে আমার মনে হয় একটু ফাঁকে করা দরকার। কেননা এটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।’

নাগরিকদের অভিযোগের জবাবে বগুড়ার মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেন, পৌরসভার আর্থিক প্রয়োজনেই বিলবোর্ড স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয় বলে জানান তিনি।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র বলেন, ‘আমরা শুধু সরকারি রেটে ভাড়াটা নেই। আর নির্মাণটা তারা নিজেরা করে। যদিও আমরা তাদের অ্যাডভাইস (পরামর্শ) দেই যে তারা সেই ভাবে করবে যেন ঝড়ে বিনষ্ট না হয়।’

বগুড়া শহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিলবোর্ড স্থাপনের ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, এমনটা প্রত্যাশা করছেন শহরবাসীরা।

 

Publisher : Abdul Majid