অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন সংশোধন আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন আপডেট: ১১:৫৪, ১৭ জুলাই ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো হাসপাতাল মানবদেহে অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না-এমন বিধান রেখে মানব দেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও সংশোধন আইন-২০১৭’র চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, আশরাফ শামীম জানান, নতুন আইনে আগের বিধানের সাজা কমিয়ে জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি এই আইন লঙ্ঘন করলে তাকে সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এর আগে এ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল সাত বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা।

এছাড়া নিকটাত্মীয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে তাকে দুই বছরের সাজা ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। নতুন আইনে কোনো চিকিৎসক দণ্ডিত হলে তার বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া কোনো হাসপাতাল কর্তৃক এ আইনের কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে উক্ত হাসপাতালের মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অনুমতি বাতিল হবে এবং উক্ত হাসপাতালে মালিককে অর্থ ও কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

অতিরিক্ত সচিব জানান, খসড়া আইনে মানবদেহে সংযোজন যোগ্য কিডনি, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, অগ্নাশয়, অস্থি, চক্ষু, অন্ত্র, যকৃতের মত অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যাবে। এসব সংযোজন বা বিয়োজনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞদের একটি মেডিকেল বোর্ড থাকবে এবং সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

আশরাফ শামীম বলেন, কোনো হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না। তবে সরকারি হাসপাতালে যেখানে বিশেষায়িত ইউনিট আছে সেখানে এ ধরনের অনুমতির প্রয়োজন নেই। যাদের অনুমতি নেই তারা এ আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে অনুমতির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

সংশোধিত আইনে নিকটাত্মীয়দের সংজ্ঞাও পরিবর্তন হয়েছে। নিকট আত্মীয়ের মধ্যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনে নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী ও রক্তের সম্পর্কের আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, নানা-নানী, দাদা-দাদী, নাতি-নাতনী এবং আপন চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাই বা বোন।

তিনি বলেন, আগের আইনে নিকট আত্মীয় বলতে পুত্র-কন্যা, পিতা-মাতা, ভাই বোন ও রক্তের সম্পর্কের আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা ও স্বামী-স্ত্রীকে বুঝানো হয়েছিল। নতুন আইনে নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তবে চোখ ও অস্থিমজ্জা সংযোজনের ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয় হওয়ার আবশ্যকতা নেই বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব।

২০১১ সালে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনার আলোকে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ১৯৯৯ নামে বর্তমান আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনেরর ক্ষেত্রে অবৈধ ব্যবসা ও পাচার বন্ধে এ আইন সংশোধন করা হয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব।

 

Publisher : Abdul Majid