অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য তৈরি হচ্ছে স্টেইনলেস স্টিল আপডেট: ০৪:১৫, ১৭ জুলাই ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: লোহায় জং ধরে, ফলে বিড়ম্বনা ব্যবহারে। সমাধান খুঁজতে উদ্ভাবনপিপাসু কিছু বিজ্ঞানী প্রবর্তন করেন স্টেইনলেস স্টিলের। মাত্র দেড় দশক আগেও দেশে স্টেইনলেস স্টিলের চাহিদার পুরোটাই ছিলো আমদানি-নির্ভর। দ্রুত এই শিল্প গড়ে উঠতে শুরু করলে, এখন তা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।  দেশে এ শিল্পের প্রচলন, অগ্রযাত্রা, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিক কয়েকটি বিশেষ প্রতিবেদন আজ এখানে প্রকাশিত হচ্ছে।

লোহায় মরচে ধরার সমস্যা সমাধানে গবেষণা শুরু হয় আঠারশ শতকে। শুরুটা যে দুই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী করছিলেন, তাদের ধারাবাহিকতায় আরেক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হ্যারি ব্রিয়ারলি সফলভাবে শেষ করেন সেই গবেষণা। লোহার সাথে নানা ধরণের উপাদান যুক্ত করে এমন ধাতব আবিস্কার করেন, যাতে মরিচা তো দূরের কথা কোনো দাগই সহজে পড়ে না। সেটাই পরে বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয় হয় স্টেইনলেস স্টিল হিসেবে।

এ প্রসঙ্গে স্থপতি ও পরিবেশবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, "লৌহ ধাতুকে একধরনের কেমিক্যাল প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এই মরিচা-নিরোধক একধরনের প্রলেপ যখন যথেষ্ট পুরু কোরে দেয়া হয়, তখন সেটা জলবায়ু ও অন্যান্য কারণে তার মরিচা ধরার পুরো কার্যক্রমটাকে বাধাগ্রস্ত করে।"

এসকেবি স্টেইনলেস স্টিল লমিটেড চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান বলেন, "স্টেইনলেস স্টিলকে বিভিন্নভাবে রূপান্তর করা যায়। এর স্থায়িত্ব বেশি। লাইফ সাইকল অনেক বেশি সাধারণ লোহার চেয়ে।"

বিশ্বের দেশে দেশে গত দুশ বছরের বেশি সময় ধরে স্টেইনলেস স্টিল এবং সেই ধাতব দিয়ে তৈরি নানা সামগ্রী জনপ্রিয় হতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আশি ও নব্বইয়ে দশক থেকে স্টেইনলেস স্টিলের ব্যবহার অল্প অল্প করে বাড়তে থাকে যা এখন একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পণ্য।

ইকবাল হাবিব এ ব্যাপারে বলেন, "আগে আমাদের তৈজসপত্র যতকিছু ছিলো, সবই কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম। স্টেইনলেস স্টিল আমরা ব্যবহার করতাম না।"

স্টেইনলেস স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ ভুঁইয়া বলেন, "জীবন থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত এখন স্টেইনলেস স্টিল ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে।"

স্টিলটেক-এর প্রধান নির্বাহী ও পরিচালক মাসুম আহমেদ বলেন, "স্টেইনলেস স্টিলের, বিশেষ কোরে পাইপ আর টিউবের মার্কেটটা আমরা বাংলাদেশের প্রস্তুতকারকরাই দখল করেছি।"

২০০০ সালের আগ পর্যন্ত দেশে স্টেইনলেস স্টিল সামগ্রীর ব্যবহারে আমদানি-নির্ভরতা ছিলো ব্যাপক। তবে, ২০০০ সালের পর থেকে দেশে স্টেইনলেস স্টিল শিল্পের বিকাশ ঘটলে, তা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রেই শুধু নয়, মূল্যসাশ্রয়ীও হয় দেশের ক্রেতাদের জন্য।

এসকেবি স্টেইনলেস স্টিল লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু খালেদ ভুঁইয়া সাইফুর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, "কাঠের একটা খাট কিনতে গেলে মানুষের পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগে। অথচ আমাদের একটা স্টিলের খাট কিনতে গেলে লাগে মাত্র সাত হাজার টাকা। এবং সেটা যদি দশ বছর ব্যবহার করে, তারপরও সেটা অন্তত পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবে।"  

যেসব জিনিস একসময় লোহা, কাঠ, মাটি, সিরামিক কিংবা কাঁচ দিয়ে তৈরি করে ব্যবহার করা হতো, সেগুলো এখন স্টেইনলেস স্টিলে তৈরি হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে সংরক্ষণযোগ্য হয়েছে। ফলে, শহরে, এমনকি এবং গ্রামেও স্টেইনলেস স্টিলের পণ্যের সমাদর বেড়েছে অল্প-সময়ে।

 

 

Publisher : Jyotirmoy Nandy